শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিবিআই। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে খুনের ঘটনার তদন্তভার হাতে নিয়েছে সিবিআই। তদন্তভার হাতে নিয়েই মধ্যমগ্রামে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ভিন্রাজ্য থেকে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের বালিয়ার বাসিন্দা রাজ সিংহ। তাঁর আইনজীবী হরিবংশ সিংহ সিবিআই তদন্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, তাঁর মক্কেলকে গ্রেফতারির সময় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। ধৃতের মায়ের দাবি, চন্দ্রনাথ-খুনে তাঁর পুত্রকে ফাঁসানো হয়েছে।
গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথকে গুলি করে খুন করা হয়। চন্দ্রনাথের গাড়ির সামনে অন্য একটি চারচাকার গাড়ি চলে এসেছিল। তার ফলে চন্দ্রনাথের গাড়ি দাঁড়িয়ে যায়। সেই সময় দু’পাশ থেকে দু’টি বাইকে চেপে আসে দুষ্কৃতীরা। চন্দ্রনাথ এবং তাঁর গাড়ির চালককে লক্ষ্য করে পর পর গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই চন্দ্রনাথের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁর গাড়ির চালক এখনও হাসপাতালে। খুনের তদন্তে নেমে অভিযুক্তদের খোঁজে উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারে হানা দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। ওই অভিযানেই ধরা পড়েন তিন অভিযুক্ত। রাজ ছাড়াও ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন ময়াঙ্করাজ মিশ্র এবং ভিকি মৌর্য। রাজের আইনজীবীর অভিযোগ, তাঁর মক্কেলকে অযোধ্যায় গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু তার পরে স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ট্রানজ়িট রিমান্ড না-নিয়ে সরাসরি কলকাতায় নিয়ে আসা হয়।
সিবিআই তদন্তের আবেদন জানিয়েছিলেন ধৃত রাজের মা জামবন্তী সিংহও। তিনি বালিয়ার রসড়া ডাকঘরের কর্মী। জামবন্তীর দাবি, তাঁর পুত্রকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি জানান, অযোধ্যা থেকে তাঁরা ফিরছিলেন। সেই সময় তাঁকে এবং রাজকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাজকে বিমানে চাপিয়ে কলকাতায় নিয়ে চলে যায় পুলিশ। ৭ মে রাজ এবং তিনি উত্তরপ্রদেশের বিধান পরিষদের সদস্য রবিশঙ্কর সিংহ ওরফে পাপ্পু সিংহের মেয়ের বিয়েতে যোগ দিতে লখনউ গিয়েছিলেন বলে দাবি জামবন্তীর। তিনি আরও জানান, পরের দিন তাঁরা বন্ধুরা অম্বেডকর নগরের এক মাজারে গিয়েছিলেন সেখানেই রাতে ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিরুদ্ধে তোপ দেগে ধৃতের মা বলেন, “৯ মে সকালে মাজারে প্রার্থনা করার পর আমরা অযোধ্যার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলাম। কিছু ক্ষণ পরে রাস্তার ধারের একটি খাবারের দোকানে খেতে থেমেছিলাম। আমরা গাড়িতে উঠেই রওনা হওয়ার সময় পুলিশ আমাদের আটক করে এবং আমাকে ও আমার ছেলেকে নিয়ে যায়।”
রাজ্য পুলিশ বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে তদন্ত শুরু করেছিল। ঘটনার তদন্তভার তারা সিবিআই-কে দেয়। মঙ্গলবার তাদের হাত থেকে তদন্তের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সিবিআই বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এই তদন্তের জন্য সিট (বিশেষ তদন্তকারী দল) গঠন করা হবে। কলকাতা অঞ্চল (জ়োন)-এর যুগ্ম নির্দেশক (হেড অফ জ়োন)-এর অধীনে কাজ করবে সেই দল।