Calcutta University

দু’টি শিক্ষাক্রম, স্নাতকোত্তরে পরিবর্তন কলকাতায়

আপাতত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে একই সঙ্গে দুই এবং এক বছরের দু’টি শিক্ষাক্রম চালু হতে চলেছে। এর জন্য আলাদা আলাদা পাঠ্যক্রম তৈরির তোড়জোড়ও শুরু হয়েছে বলে জানান উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ।

ঋজু বসু

শেষ আপডেট: ০৪ মে ২০২৬ ০৬:৩৯
Share:

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। —ফাইল চিত্র।

অতীতের সঙ্গে ধারাবাহিকতা মুছবে না পুরোটা। তবে, পাঠক্রমের খোলনলচের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসছে স্নাতকোত্তরে। পাশাপাশি, নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতির পথ ধরে চলতি বছরেই পঠনপাঠনে বদল আসতে চলেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকের শিক্ষাক্রমেও। এ বারই স্নাতকের চার বছরের শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীরা তৃতীয় বর্ষের পাঠ শেষ করে চতুর্থ বর্ষের পাঠ নিতে শামিল হবেন। চার বছরের পাঠক্রম শেষে ২০২৭ সালে ওই শিক্ষার্থীরা এক বছরের স্নাতকোত্তরের পাঠ নিতে পারবেন। আবার, জাতীয় শিক্ষা নীতি মেনেই স্নাতকে তিন বছরের পাঠ শেষে এ বছরই কেউ চাইলে স্নাতকোত্তরে দু’বছরের পাঠক্রমে ভর্তি হতে পারবেন।

অর্থাৎ, আপাতত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে একই সঙ্গে দুই এবং এক বছরের দু’টি শিক্ষাক্রম চালু হতে চলেছে। এর জন্য আলাদা আলাদা পাঠ্যক্রম তৈরির তোড়জোড়ও শুরু হয়েছে বলে জানান উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ। তবে, বেশির ভাগ আসনই স্নাতকোত্তরে দু’বছরের পাঠক্রমের জন্য রাখা থাকছে বলে জানাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রবিবার উপাচার্য বলেন, ‘‘আমরা চাইছি, স্নাতকোত্তরের দু’বছরের কোর্সে প্রথম বর্ষের পাঠ্য এবং স্নাতকের চতুর্থ বর্ষের পাঠ্য মোটামুটি এক থাকবে। এর পরে স্নাতকোত্তরে এক বছরের কোর্সে যাঁরা ভর্তি হবেন, তাঁরা দ্বিতীয় বর্ষে পাঠরত দু’বছরের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রত্যাশীদের সঙ্গেই ক্লাস করতে পারবেন।’’ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঠিক করেছেন, বি এ, বি এসসি, বি কমে তিন বছরের পাঠ শেষে শিক্ষার্থীরা দু’টি মেজর বা মূল বিষয়-সহ সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি পাবেন। আর স্নাতকে চার বছরের পাঠ শেষে পাবেন অনার্স। আবার, ৭৫ শতাংশ নম্বর থাকলে এবং কলেজের সেই বিভাগে দু’জন পিএইচ ডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক থাকলে নির্দিষ্ট বিষয়ে অনার্স-সহ রিসার্চের ডিগ্রিও পাবেন পড়ুয়ারা।

তবে বিভিন্ন কলেজের নানা বিভাগেই পিএইচ ডি প্রাপ্ত শিক্ষকের অভাব আছে। লেডি ব্রেবোর্ন কলেজের অধ্যক্ষা শিউলি সরকার বলছিলেন, ‘‘চার বছরের কোর্সে যাঁরা পড়বেন, তাঁদের অবশ্যই আমরা বিভিন্ন বিভাগে পরিকাঠামোর অবস্থা জানাব। আমাদের কলেজেই উর্দু বা স্ট্যাটিসটিক্সের মতো বিভাগে দু’জন করে পিএইচ ডি প্রাপ্ত শিক্ষক নেই। সুতরাং, ওই বিভাগে স্নাতকে চার বছরের পাঠ নিলেও ইউজিসি-র বিধিমাফিক অনার্সের সঙ্গে রিসার্চের ডিগ্রি পড়ুয়ারা পাবেন না।’’ পরিকাঠামোর এই সমস্যায় ছাত্রছাত্রীরা রিসার্চের ডিগ্রি না-পাওয়ার পরিস্থিতিতে থাকলে তাঁদের স্নাতকে তিন বছরের পাঠ শেষে দু’বছরের স্নাতকোত্তরে ভর্তি হতে উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে বলে মনে করেন কলকাতার উপাচার্যও।

আশুতোষের কথায়, ‘‘আপাতত স্নাতকোত্তরে দুই এবং এক বছরের দু’টি পাঠ্যক্রম তৈরি নিয়ে বিভিন্ন বিভাগের বোর্ড অব স্টাডিজ়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমরা চেষ্টা করছি, দু’টি কোর্সের মধ্যে খানিকটা সামঞ্জস্য রাখতে, যাতে পড়ুয়ারা কেউ কারও থেকে পিছিয়ে না-থাকেন।’’ তবে বিভিন্ন ভাষা, সাহিত্য বা তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগে দু’টি কোর্সে সমতা রাখতে কিছুটা সমস্যাও রয়েছে বলে সূত্রের খবর। বিষয়টি সুষ্ঠু ভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন