DA West Bengal

বকেয়া ডিএ থেকে পে কমিশন, আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, বৈঠক শেষে দাবি সরকারি কর্মচারী সংগঠনের

বৈঠকে বকেয়া ডিএ, নতুন পে কমিশন, শূন্যপদে নিয়োগ, অস্থায়ী কর্মীদের বেতনবৃদ্ধি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবিদাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ২১:০২
Share:

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ দিনের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) সংক্রান্ত সমস্যা ও ক্ষোভ নিরসণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে নবান্নে চারটি প্রধান সরকারি কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ ছাড়াও ওই বৈঠকে হাজির ছিলেন কনফেডারেশন অফ গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ়, ইউনিটি ফোরাম এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী পরিষদের সদস্যেরা। বৈঠকে বকেয়া ডিএ, নতুন পে কমিশন, শূন্যপদে নিয়োগ, অস্থায়ী কর্মীদের বেতনবৃদ্ধি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবিদাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement

বৈঠকে সংগঠনগুলির দাবি, পূর্ববর্তী সময়ের মতো ডিএ সংক্রান্ত বিষয় ঝুলিয়ে না রেখে সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানের পথে এগোতে চায় সরকার। কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে বলা হয়েছে, বকেয়া ডিএ-র একটি বড় অংশ ধাপে ধাপে মিটিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু রাজ্য সরকারি কর্মচারীরাই নন, গ্র্যান্ট-ইন-এড বা অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও এই সুবিধার আওতায় আসবেন বলে সূত্রের খবর।

জানা গিয়েছে, আগামী ২২ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলা বাজেট অধিবেশনেই বকেয়া ডিএ পরিশোধের বিষয়ে সরকার একটি স্পষ্ট রূপরেখা এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করতে পারে। এই আশ্বাসে কর্মচারী সংগঠনগুলির মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে চলা আন্দোলন ও দাবিদাওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকারের এই অবস্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। বৈঠকের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল নতুন পে কমিশন। কর্মচারী সংগঠনগুলিকে জানানো হয়েছে যে আগামী বছর জানুয়ারি মাস থেকেই নতুন পে কমিশন কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার এগোচ্ছে। সেই উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট কমিশন বা সংস্থাকে দ্রুত সুপারিশপত্র ও প্রস্তাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ডিএ প্রদান নিয়ে যাতে অনিশ্চয়তা তৈরি না হয়, তার জন্য একটি স্থায়ী আদেশনামা জারির দাবিও কর্মচারী সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়েছে।

Advertisement

শুধু ডিএ বা পে কমিশন নয়, রাজ্যের শূন্যপদ পূরণের বিষয়েও বড় ঘোষণা এসেছে। বৈঠকে জানানো হয়েছে, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ৬ তারিখের মধ্যে একটি নতুন ও স্বচ্ছ নিয়োগ নীতি চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন নিয়োগকারী বোর্ড ও সংস্থার পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন কাঠামো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে কর্মরত অস্থায়ী কর্মীদের অন্যান্য রাজ্যের সমপর্যায়ের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের অধীনস্থ অস্থায়ী কর্মীদের বেতনবৃদ্ধি এবং স্থায়ীকরণের দাবিও জোরাল ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধিরা বৈঠক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সংগঠনের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, ‘‘দীর্ঘ দিন পরে সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী নিজে উদ্যোগী হয়ে বৈঠক করায় ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীও আশ্বাস দিয়েছেন, এই বৈঠকই শেষ নয়। ভবিষ্যতেও নিয়মিত ভাবে কর্মচারী সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা চলবে। প্রয়োজনে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করে বিভিন্ন দাবি ও সমস্যা সমাধানের পথ খোঁজা হবে।’’ ফলে ডিএ-সহ কর্মচারীদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবির সমাধানে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement