রফায় পুরুলিয়া-সূত্র, ঐক্যের বার্তা ইস্তাহারেও

তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করতে ২৯৪টির মধ্যে ৯০ থেকে ৯৫% আসনেই ‘একের বিরুদ্ধে এক’ প্রার্থী দিতে হবে বলে মন্তব্য করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। শুধু মুখের কথাই নয়, তৃণমূলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই নিশ্চিত করতে সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে ঘরোয়া ভাবে আলোচনাতেও বসেছেন তিনি। রাতারাতি আসন-রফা উঠে না এলেও অন্তত প্রথম দফায় যে আসনগুলি ভোটে যাবে, সেগুলির জন্য একের বিরুদ্ধে এক সূত্র কার্যকর করার জোরদার চেষ্টা চালাচ্ছেন দু’দলের নেতারা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ মার্চ ২০১৬ ০৩:১৭
Share:

তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করতে ২৯৪টির মধ্যে ৯০ থেকে ৯৫% আসনেই ‘একের বিরুদ্ধে এক’ প্রার্থী দিতে হবে বলে মন্তব্য করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। শুধু মুখের কথাই নয়, তৃণমূলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই নিশ্চিত করতে সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে ঘরোয়া ভাবে আলোচনাতেও বসেছেন তিনি। রাতারাতি আসন-রফা উঠে না এলেও অন্তত প্রথম দফায় যে আসনগুলি ভোটে যাবে, সেগুলির জন্য একের বিরুদ্ধে এক সূত্র কার্যকর করার জোরদার চেষ্টা চালাচ্ছেন দু’দলের নেতারা।

Advertisement

বামেদের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে রফাসূত্র বার করার লক্ষ্যে শনিবার প্রদেশ কংগ্রেসের কয়েক জন শীর্ষ নেতার সঙ্গে আলোচনায় বসেন অধীর। তার পরেই অধীরের বক্তব্য, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধাক্কা দিতে হলে, উৎখাত করতে হলে ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ আসনেই একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী দিতে হবে। এটা উভয়েরই নির্বাচনী বাধ্যবাধকতা।’’ পরে রাতে অধীর বৈঠকে বসেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রবীন দেবের সঙ্গে। আলোচনার বিষয়ে দু’জনের কেউই মুখ খোলেননি। তবে সূত্রের খবর, প্রথম পর্যায়ে যে ১৮টি বিধানসভা আসনের ভোট, তার মধ্যে পুরুলিয়া জেলা বাদে অন্য কোথাও কংগ্রেসের তেমন দাবি নেই। তাই পুরুলিয়া, বাঘমুণ্ডি ও বলরামপুর আসন তিনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দিয়ে রফা-সূত্র তৈরি হচ্ছে।

এই আলোচনার আগেই অধীর এ দিন বলেছেন, ‘‘বিষয়টি চূড়ান্ত পরিসমাপ্তির দিকে। তবে আদর্শগত ভাবে ভিন্ন মেরুর দু’টো দলের সমঝোতায় সময় লাগার অর্থ এই নয় যে, তৃণমূল আমাদের থেকে এগিয়ে গিয়েছে!’’ আবার সমঝোতার পথ খোলা রেখেই বাকি প্রস্তুতি চালাচ্ছে বামেরা। প্রতি বার ভোটে ইস্তাহার হয় বামফ্রন্টের নামে। বামফ্রন্ট সরকার গড়ারই আহ্বান থাকে সেখানে। এ বার সেখানে ‘বাম ও গণতান্ত্রিক শক্তি’কে জেতানোর কথা বলা হচ্ছে। বামফ্রন্টের ইস্তাহার কমিটি এ দিন প্রাথমিক আলোচনায় এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার পাশাপাশিই ঠিক হয়েছে, খসড়া ইস্তাহার এ বার দু-এক দিনের মধ্যে ওয়েবসাইটে দিয়ে দেওয়া হবে। জনতার মতামত নিয়ে তার ভিত্তিতে সংশোধনী জুড়ে তার পরে প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ইস্তাহার।

Advertisement

আসন-রফা চূড়ান্ত হওয়ার আগে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকাও তৈরি রাখছে কংগ্রেস। প্রদেশ সভাপতি তাই দলের শীর্ষ নেতাদের প্রত্যেককেই প্রার্থী হওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন। লোকসভা ভোটের যেমন ঠিক আর্জি জানিয়েছিলেন কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রাহুল গাঁধী। অধীর প্রদেশ সভাপতির দায়িত্বে আসার পরে নানা মতানৈক্যে দলের বর্ষীয়ান নেতা আব্দুল মান্নানের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বেড়েছিল। সেই বিরোধের কথা সর্বভারতীয় কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছেও পৌঁছেছিল। বামেদের সঙ্গে সমঝোতার সূত্রে মান্নান-অধীর এখন অনেকটাই কাছাকাছি। প্রায় দেড় বছরের ‘বয়কট’ ভুলে এ দিনই প্রথম প্রদেশ কংগ্রেসের দফতর বিধান ভবনে গিয়েছিলেন মান্নান। প্রদেশ সভাপতির সঙ্গে মান্নানের ঘণ্টাদুয়েক আলোচনাও হয়েছে। পরে অধীর বলেন, ‘‘মান্নানদাকে খুব চাপ দেওয়া হচ্ছে ভোটে দাঁড়ানোর জন্য। ওঁকে বলেছি, ওঁর মতো রাজনীতিক জিতলে বিধানসভা সমৃদ্ধ হবে।’’ তাঁর পুরনো কেন্দ্র হুগলির চাঁপদানি থেকেই মান্নানকে প্রার্থী করার চেষ্টা করা হচ্ছে অধীরের তরফে। মান্নান অবশ্য এর আগে মুর্শিদাবাদ বা মালদহের কোনও কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন।

প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীপা দাশমুন্সি এবং শঙ্কর সিংহের সঙ্গে প্রদেশ সভাপতির সম্পর্ক ‘শীতল’ হলেও ওই দু’জনকে বিধানসভায় প্রার্থী করতে চান অধীর। দু’জনকেই তাঁদের পুরনো কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। অধীরের কথায়, ‘‘দীপা উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখরে দাঁড়াতে রাজি হলে ভাল হয়। আমার সঙ্গে ওঁর কথা হয় না। আমার তরফে অন্যদের দিয়ে ওঁকে রাজি করার চেষ্টা হচ্ছে।’’ একই ভাবে নদিয়ায় শঙ্করবাবুকেও তাঁর পছন্দের জায়গা থেকে প্রার্থী করতে চান প্রদেশ সভাপতি। প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি সোমেন মিত্রকে কলকাতায় তাঁর নিজের পছন্দমতো যে কোনও আসন দিতে রাজি অধীর। তবে সোমেনবাবু নিজে প্রার্থী না হয়ে তাঁর স্ত্রী শিখা মিত্রকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বলতে পারেন বলে দলের একটি সূত্রের ইঙ্গিত।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement