গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
জোরকদমে চলছে ‘উৎসের সন্ধান’। বারাসতের দুই নার্স কী ভাবে নিপা ভাইরাসে সংক্রমিত হলেন তার খোঁজ করতে গিয়ে বেশ কিছু নতুন তথ্যের সন্ধান পেয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর।
কোন ব্যক্তির সম্পর্শে এসে ওই দুই নার্স নিপা ভাইরাস সংক্রমিত হলেন, তা জানতে ‘কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং’ শুরু করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। আলাদা আলাদা ভাবে তৈরি করা হয়েছে দুই আক্রান্তের লাইন লিস্ট। আর তা থেকে জানা যাচ্ছে, আক্রান্তদের এক জন কয়েক দিন আগে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া নদিয়া জেলার একটি গ্রামে গিয়েছিলেন। যদিও সেখান থেকে সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে না।
একই ভাবে আক্রান্ত নার্স দু’জনে একে অন্যকে সংক্রমিত করেছিলেন এমনটাও মনে করছেন না স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষজ্ঞেরা। বরং তাঁদের ভাবনা কর্মস্থল থেকে সংক্রমণের সম্ভাবনা নিয়ে। আক্রান্ত দু’জন একই হাসপাতালে কর্মরত। ফলে সেখানকার কারও ‘ক্লোজ কন্ট্যাক্ট’-এ এসে সংক্রমণ ছড়িয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কর্মস্থলে খোঁজখবর নিয়ে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত দুই নার্স কিছু দিন আগে একই সঙ্গে নাইট ডিউটি করেছিলেন। এক জন রোগীর সংস্পর্শে দু’জনেই এসেছিলেন বলেও অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতরের একটি সূত্র জানাচ্ছে।
নিপায় আক্রান্ত এই দুই নার্সের চিকিৎসা চলছে বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। তাঁদের দু’জনের নমুনা পাঠানো হয়েছিল পুণেতে। রিপোর্টে দু’জনের শরীরে নিপা ভাইরাসের অস্তিত্ব মেলে। দুই নার্সের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক ছিল। তাঁদের ভেন্টিলেশনে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছিল। তবে গত দু’দিনের তুলনায় সামান্য উন্নতি হয়েছে এক নার্সের। অন্য জনের অবস্থার নতুন করে অবনতি হয়নি বলেই বৃহস্পতিবার হাসপাতাল সূত্রের খবর। প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী দুই নার্সের নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি, এ-ও জানিয়েছিলেন যে, গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অযথা আতঙ্কিত না-হয়ে সকলকে সতর্ক থাকার বার্তাও দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে ইতিমধ্যেই।