ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। — ফাইল চিত্র।
২১ মে ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচন। তার আগে গ্রেফতার হতে পারেন, আশঙ্কা জানিয়ে সোমবার হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। মামলা করার অনুমতি দিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। সোমবার দুপুর ২টোর সময় শুনানি।
হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে জাহাঙ্গির অভিযোগ করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, এফআইআর করা হয়েছে। তৃণমূল প্রার্থীর আবেদন, তাঁর বিরুদ্ধে ক’টা মামলা, কত এফআইআর হয়েছে, তা জানাক রাজ্য। তাঁর আশঙ্কা, তাঁকে ভোটের আগে গ্রেফতার করা হতে পারে।
প্রসঙ্গত, শনিবারই ফলতায় সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গিরকে তোপ দেগে তিনি বলেছিলেন, ‘‘ভোট শেষ হোক। ওর ব্যবস্থা করব। সেই দায়িত্ব আমার।’’
অভিষেক-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত জাহাঙ্গির গত কয়েক বছরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান নাম হয়ে উঠেছেন। বিধানসভা ভোটে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা ‘বনাম’ তৃণমূল প্রার্থীর ঠান্ডা লড়াই প্রত্যক্ষ করেছে রাজ্য। এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট অজয়পাল উত্তরপ্রদেশের আইপিএস। পুলিশকর্তা হিসাবে ভাবমূর্তির জন্য বড়পর্দার চরিত্র ‘সিংহম’-এর সঙ্গে তাঁর তুলনা করা হয় আদিত্যনাথের রাজ্যে। সেই অজয়পালের উদ্দেশে জাহাঙ্গির বলেছিলেন, ‘‘উনি সিংহম হলেও আমিও পুষ্পা... ঝুঁকেগা নহি।’’
ভোট মিটে যাওয়ার পর বিরোধীরা অভিযোগ করেন, ফলতা বিধানসভার বেশ কয়েকটি বুথে সুষ্ঠু ভোট হয়নি। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। বিজেপি যখন বিরোধীর আসনে ছিল, তাদের অভিযোগ ছিল, ফলতা তথা ডায়মন্ড হারবার লোকসভায় জাহাঙ্গিরের নেতৃত্বেই সন্ত্রাস-মারামারি, তোলাবাজি, জোর করে বুথ দখলের বহু ঘটনা ঘটে। বিরোধী রাজনীতি করা লোকজন তো বটেই, বহু সাধারণ মানুষ নাকি জাহাঙ্গিরের দাপটে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
জাহাঙ্গির অবশ্য সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করেছেন। শুধু ফলতা থেকে ডায়মন্ড হারবার লোকসভার তৃণমূল প্রার্থীকে দেড় লক্ষ লিড দেওয়ার প্রধান চরিত্র শুক্রবার দলীয় কার্যালয় খুলে জানিয়েছেন ভোটের জন্য তিনি প্রস্তুত। জাহাঙ্গিরের দাবি, তৃণমূল আমলে সমগ্র ফলতায় তিনি কী কাজ করেছেন, সেই জবাব সর্বসাধারণ দেবে। এ বার তিনি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।