ডানকুনির তৃণমূল কাউন্সিলর সূর্য দে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
দিব্যি বেঁচে আছেন, কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনি মৃত!
মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের খসড়া তালিকা প্রকাশের কথা। তবে তার আগে কমিশনের তরফে বুথভিত্তিক মৃত এবং স্থানান্তরিতদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই তালিকায় নিজেকে ‘মৃত’ দেখে হতবাক ডানকুনির তৃণমূল কাউন্সিলর সূর্য দে! তালিকায় নিজেকে মৃত দেখার পরই সদলবলে শ্মশানে পৌঁছে যান তিনি। তাঁর আবেদন, কমিশনের আধিকারিকেরা এসে তাঁকে যেন চুল্লিতে ঢুকিয়েই দেন! এই ঘটনা নিয়ে শোরগোল পড়তেই নড়েচড়ে বসল কমিশন। জেলাশাসকের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হল। কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক হুগলির ডিইও-র কাছে রিপোর্ট চেয়েছেন।
সূর্য ডানকুনি পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর। মঙ্গলবার সকালে কালীপুর শ্মশানে নিজেই হেঁটে চলে আসেন। পাশে পাশে আসেন তাঁর অনুগামীরা। কেন তিনি শ্মশানে, জানতে চাইলে তাঁর দাবি, কমিশন যখন আমাকে ‘মৃত দেখিয়ে’ দিয়েছে, তখন সৎকারও করে দিক!
দিনকয়েক আগেই বুথভিত্তিক মৃত এবং স্থানান্তরিতদের তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। তবে এত দিন সেই তালিকা দেখেননি সূর্য। তবে মঙ্গলবার খসড়া তালিকায় খুঁজতে গিয়ে মৃত এবং স্থানান্তরিতদের তালিকায় নিজের নাম দেখতে পান তিনি! তখনই ঠিক করেন শ্মশানে গিয়ে প্রতিবাদ জানাবেন।
সূর্যের কথায়, ‘‘আমি নিজে কালীপুর শ্মশানে হেঁটে হেঁটে চলে এসেছি। নিজের সৎকারের জন্য। আমি একজন জনপ্রতিনিধি, কিন্তু আমাকে মৃত দেখানো হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধিকেই যদি মৃত দেখানো হয় এ ভাবে তবে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষকে তো সহজেই বাদ দিতে পারে কমিশন।’’ এর জন্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে দায়ী করেছেন সূর্য। তাঁর দাবি, ‘‘আমাকে তো মৃত দেখিয়ে দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের বলছি আপনারা আসুন, আমাকে শ্মশানে পুড়িয়ে দিন।’’
সূর্য এ-ও জানান, তিনি এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করেছেন। জমা দিয়েছেন বুথস্তরের আধিকারিকের (বিএলও) কাছে। তার পরেও এমন ভাবে তাঁকে ‘মৃত’ দেখানোর নেপথ্যে ‘চক্রান্ত’ দেখছেন সূর্য। তবে সূর্য শুধু একা নন, ওই একই বুথে আরও অন্তত ২০ জন থাকতে এমন ভোটার থাকতে পারেন। রাজ্যের সিইও জানিয়েছেন, হুগলির কাউন্সিলর বাদ যাওয়ার ঘটনায় ডিইও-র কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। ইচ্ছাকৃত ভাবে হলে বিএলও-এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে।
পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের খসড়া তালিকা এখনও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন। তবে বিডিও অফিসগুলিতে ইতিমধ্যেই খসড়া তালিকা পৌঁছে গিয়েছে। সেখান থেকেই বিএলও এবং বিএলএ-দের কাছে খসড়া তালিকা পৌঁছে যাচ্ছে।