গাছের যত্নে ব্যস্ত। নিজস্ব চিত্র ।
স্কুলের সামনে এক চিলতে জমিতে ফসল ফলাচ্ছে একদল খুদে। সাঁকরাইলের কান্দুয়া পঞ্চায়েতের পার্ট ভগবতীপুর গ্রামের নমিতারানী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে নজরে আসবে এমনই দৃশ্য। ছোট ছোট গাছের যত্ন নেওয়ার মধ্যে দিয়ে প্রকৃতিকে ভালোবাসার প্রাথমিক পাঠ পাচ্ছে ওই খুদে পড়ুয়ারা।
চারদিকে রেললাইন দিয়ে ঘেরা ছোট্ট গ্রাম কান্দুয়া পঞ্চায়েতের পার্ট ভগবতীপুর। যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে এক দিকে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের হাওড়া-খড়গপুর শাখার আবাদা স্টেশন। অন্য দিকে, প্রায় ১কিলোমিটার দূরে সাঁকরাইলস্টেশন সংলগ্ন বাস, ট্রেকার, এবং অটো স্ট্যান্ড। সেইখানেই প্রকৃতির মধ্যে রয়েছে নমিতারানী প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলের পাঁচটি শ্রেণিতে পড়ুয়ার সংখ্যা মাত্র ১৮। প্রাক প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পঠনপাঠন চলে এই বিদ্যালয়ে।
স্কুল সুত্রে জানা গিয়েছে, একচিলতে জমিতে সামান্য কিছু আনাজের গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয় কয়েক বছর আগে। গাছ লাগালেই তো হল না, তার নিয়মিত পরিচর্যাও প্রয়োজন। স্কুলের খুদে পড়ুয়াদের সেই কাজে লাগাতে হাতে কলমে প্রকৃতির পাঠ দেওয়া শুরু। প্রধান শিক্ষিকা সুস্মিতা দাস বলেন, ‘‘গাছের পরিচর্যায় ছোটাবেলা থেকেই আগ্রহী করে তুলতে আমরা প্রত্যেককে একটি করে গাছের দায়িত্ব দিই। সেই গাছটিকে সারা বছর ধরে পরিচর্যার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই ওই পড়ুয়া নিজের গাছটি অন্যদের থেকে ভাল করে তোলার বিষয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠে। তার ফলে স্কুলে তার নিজের পড়াশুনোর ফাঁকে সে নিজেই সময় বার করে গাছের পরিচর্যা করতে থাকে নিয়মিত।’’ তিনি জানান, এর পাশাপাশি পরিবেশে গাছের যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে সেই বিষয়ে তাদের সচেতন করা হয়। পাশাপাশি স্কুলের বাগানে তৈরি এই সব আনাজ মিড ডে মিলে শিশুদের মেনুতে অন্য মাত্র এনে দেয়।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে এই পরিদর্শনে আসেন জেলার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান। সেই সময়ে স্কুলের জমিতে কিচেন গার্ডেন গড়ে তোলার পরামর্শ দেন এবং কিছু গাছও পাঠিয়ে দেন তিনি। তারপরেই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তত্ত্বাবধানে পড়ুয়ারা গড়ে তোলে এই কিচেন গার্ডেন। এই স্কুলের রীতি, চতুর্থ শ্রেণি পাশ করে অন্য স্কুলে যাওয়ার আগে খুদেরা তাদের গাছের দায়িত্ব দিয়ে যায় নিচু ক্লাসের পড়ুয়াদের।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, ‘‘খুবই ভাল উদ্যোগ। আমরাও স্কুলগুলির এমন উদ্যোগে তাদের পাশে থাকি। এগুলোই জীবনের পাথেয়।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে