জ্বলছে ট্রেলার। ছবি: সুব্রত জানা।
দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে মুম্বই রোডে।
রবিবার দুপুরে হাওড়ার সাঁকরাইলের আলমপুরে মুম্বই রোডের আন্ডারপাসের নীচে মেয়েকে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এক মহিলা। তখন একটি ট্রেলার তাঁদের দু’জনকে ধাক্কা মারলে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরে উত্তেজিত জনতা ট্রেলারটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। চালককে মারধর করে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম রশিদা বেগম (৪৫) এবং শাহিনা (৮)। বাড়ি আমতার নারিটে। তাঁরা নারিটগামী বাস ধরার জন্য রাস্তার ধারে দাঁড়িয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরে মুম্বই রোডে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২৭ মে উলুবেড়িয়ার মহিষরেখা সেতুতে ট্রাকের ধাক্কায় এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছিল। ৩০ মে উলুবেড়িয়ার বীরশিবপুরে মুম্বই রোডের ডিভাইডারে ধাক্কা মেরে গাড়ি উল্টে গেলে মৃত্যু হয় চার জনের। আহত হন পাঁচ জন। গতকাল, ৪ জুন উলুবেড়িয়ার জেলেপাড়া শ্মশানতলায় রাস্তা পার হতে গিয়ে দুটি ট্রাকের রেষারেষির মাঝে পরে মৃত্যু হয় এক কিশোরের।
এ দিন আলমপুরের দুর্ঘটনাটি ঘটে বেলা একটা নাগাদ। রশিদা বেগম তাঁর মেয়েকে আন্দুলের একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে নারিটের বাস ধরার জন্য তাঁরা আলমপুর মোড়ে আসেন। এই জায়গাটি মুম্বই রোডের ঠিক পাশে। সেখানে মুম্বই রোডের আন্ডারপাসের নীচে একটি দোকান থেকে খাবার কিনে খাচ্ছিলেন দু’জনে। তখনই একটি ট্রেলার ইউটার্ন নিয়ে আন্ডারপাসের নীচে দিয়ে হাওড়াগামী লেনে উঠতে গিয়ে ধাক্কা মারে রশিদা বেগম এবং তাঁর মেয়েকে। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরে উত্তেজিত জনতা ট্রেলার-সহ চালককে ধরে ফেলে। ট্রেলারে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আলমপুর থেকে দমকলের দু’টি ইঞ্জিন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। চালককে মারধর করা হয়। তাঁকে স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিমদিঘির দুর্ঘটনাটিও ঘটে দুপুরে। শ্রীরামপুর-বীরশিবপুর রুটের একটি যাত্রী বোঝাই বাস শ্রীরামপুরে যাওয়ার পথে নিমদিঘিতে মুম্বই রোডের উপরে দাঁড়িয়েছিল। তখনই কলকাতা-সোলপাট্টা রুটের একটি বাস ওই বাসটির পিছনে এসে ধাক্কা মারে। শ্রীরামপুরগামী বাসটির যাত্রীরা আহত হন। তাঁদের ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।