তারকেশ্বরে গাজন মেলায় দেদার বিকোচ্ছে টিয়া-চন্দনা

ট্রেন থেকে নেমে মন্দিরের দিকে এগোতে থাকলেই কানে আসছে পাখির কুজন। গাছের ডালে অবশ্য নয়, ওই সমস্ত পাখি বন্দি হয়ে রয়েছে ছোট-বড় নানা আকারের খাঁচায়। তারকেশ্বরের গাজন মেলায় আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রতিবারেই পাখি বিক্রির অভিযোগ তোলেন পাখিপ্রেমীরা। তা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট দফতর চোখ বুজে থাকে বলে অভিযোগ। এ বারও এই পরিস্থিতির অন্যথা হল না। গাজন মেলাকে কেন্দ্র করে বেআইনি ভাবে পাখি বিক্রির রমরমা চলছেই তারকেশ্বরে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০১৫ ০২:২৬
Share:

মেলায় বিক্রির অপেক্ষায়।—নিজস্ব চিত্র।

ট্রেন থেকে নেমে মন্দিরের দিকে এগোতে থাকলেই কানে আসছে পাখির কুজন। গাছের ডালে অবশ্য নয়, ওই সমস্ত পাখি বন্দি হয়ে রয়েছে ছোট-বড় নানা আকারের খাঁচায়। তারকেশ্বরের গাজন মেলায় আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রতিবারেই পাখি বিক্রির অভিযোগ তোলেন পাখিপ্রেমীরা। তা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট দফতর চোখ বুজে থাকে বলে অভিযোগ। এ বারও এই পরিস্থিতির অন্যথা হল না। গাজন মেলাকে কেন্দ্র করে বেআইনি ভাবে পাখি বিক্রির রমরমা চলছেই তারকেশ্বরে। বন দফতরের আধিকারিকদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে কেউ তাঁদের কাছে অভিযোগ করেননি। তাই ওখানে পাখি বিক্রি হচ্ছে বলে তাঁদের জানা নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা।

Advertisement

প্রতি বছর গাজন মেলা উপলক্ষে বহু মানুষ তারকেশ্বরে আসেন। মেলায় বিভিন্ন জায়গা থেকে পাখি বিক্রেতারা আসেন। লুকিয়ে-চুরিয়ে নয়, প্রকাশ্যে রাস্তার ধারে বসেই রীতিমতো দর হেঁকে সেই সব পাখি বিক্রি করা হয়। পূণ্যার্থীদের অনেকেই বাড়ি ফেরার সময় পাখি কিনে নিয়ে যান। গত কয়েক দিন ধরেই স্টেশন থেকে মন্দির পর্যন্ত রাস্তার ধারে দিনভর শ’য়ে শ’য়ে পাখি বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ। টিয়া, ময়না, চন্দনা, মুনিয়া— সবই আছে সেই তালিকায়। চন্দনা বিকোচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। আকার অনুযায়ী টিয়ার দাম ঘোরাফেরা করেছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে। ময়নার দাম আর একটু বেশি।

এ দিন নালিকুলের একটি বন্যপ্রাণ ও পক্ষীপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরা তারকেশ্বরে যান। সংগঠনের এক সদস্যের অভিজ্ঞতা, ‘‘সকলের নাকের ডগায় নির্বিচারে পাখি বিক্রি হচ্ছে। এর আগেও আমরা সংশ্লিষ্ট দফতরকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তা সত্ত্বেও এ ভাবে ভারতীয় পাখি বিক্রি করা বন্ধ হল না! এটা দুর্ভাগ্যজনক।’’

Advertisement

বিক্রেতাদের অনেকেই জানিয়েছেন, ফি বছর তাঁরা আসেন। বিনা বাধায় পাখি বিক্রি করে ফিরে যান। বন দফতরের তরফে নজরদারি কার্যত হয় না বললেই চলে। এ ব্যাপারে হুগলি বন দফতরের বিট অফিসার কুবলয় ঘোষ বলেন, ‘‘তারকেশ্বরে পাখি বিক্রি হচ্ছে বলে কেউ আমাদের জানাননি। আগামীকাল পয়লা বৈশাখের ছুটি। পরশু অফিসে গিয়ে রেঞ্জ অফিসারকে সমস্ত বিষয় রিপোর্ট করব।’’

রেঞ্জ অফিসার চিত্তরঞ্জন প্রামাণিক বলেন, ‘‘কিছু দিন আগে এক ব্যক্তি তারকেশ্বরে পাখি বিক্রির অভিযোগ করেছিলেন। আমরা গিয়ে কিছুই পাইনি। বিভ্রান্ত হতে হয়েছে। তবে আপনারা যখন বলছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement