জেরায় কবুল ধৃতের

মারের বদলা নিতে খুন ছাত্র

সপ্তাহের গোড়ায় উত্তরপাড়ার মাখলায় দাদার পাশে শুয়ে থাকা নবম শ্রেণির এক ছাত্রকে ঘুমের মধ্যেই গুলি করে খুন করেছিল দুষ্কৃতীরা। সেই ঘটনায় শুক্রবার রাতে অমিত ভগত নামে বছর কুড়ির এক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। পুলিশের দাবি, জেরায় ধৃত অপরাধের কথা কবুল করে জানিয়েছে, এক কিশোরীকে কটূক্তি করা নিয়ে গোলমালের জেরেই খুন। ইচ্ছে করলে তারা দুই ভাইকেই মেরে ফেলতে পারত।

Advertisement

প্রকাশ পাল

শেষ আপডেট: ২৭ ডিসেম্বর ২০১৫ ০২:৫৬
Share:

ধৃত অমিত ভগত। নিজস্ব চিত্র।

সপ্তাহের গোড়ায় উত্তরপাড়ার মাখলায় দাদার পাশে শুয়ে থাকা নবম শ্রেণির এক ছাত্রকে ঘুমের মধ্যেই গুলি করে খুন করেছিল দুষ্কৃতীরা। সেই ঘটনায় শুক্রবার রাতে অমিত ভগত নামে বছর কুড়ির এক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। পুলিশের দাবি, জেরায় ধৃত অপরাধের কথা কবুল করে জানিয়েছে, এক কিশোরীকে কটূক্তি করা নিয়ে গোলমালের জেরেই খুন। ইচ্ছে করলে তারা দুই ভাইকেই মেরে ফেলতে পারত। কিন্তু শুধু এক জন স্কুলছাত্রকে খুন করলে লোকের মনে বেশি করে আতঙ্ক ছড়ানো যাবে এবং এলাকায় প্রভাব বিস্তার করা সহজ হবে, এই ধারণা থেকেই তারা ওই সিদ্ধান্ত নেয়।

Advertisement

জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘ধৃত অপরাধের কথা কবুল করেছে। ওই ঘটনায় আরও কয়েক জন জড়িত। সকলেই পলাতক। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’’

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তেরা ওই এলাকায় তোলাবাজি করে। স্থানীয় একটি ক্লাবে তারা আড্ডা দেয়। গত রবিবার এক জনের বান্ধবীকে কটূক্তি করা নিয়ে সুরজের সঙ্গে তাদের ঝামেলা হয়। এক অভিযুক্ত সুরজের গায়ে হাত তোলে। তার পরে ক্লাবের সামনেই সুরজ এবং তার দাদা গিয়ে তাকে পাল্টা মারে। ধৃতকে জেরা করে জানা গিয়েছে, নিজেদের ক্লাবের সামনেই এক জন মার খেয়ে যাওয়ায় এলাকায় ‘দাদাগিরি’তে ভাটা পড়বে, এই আশঙ্কাতেই সুরজের উপর প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। নিহতের পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, মার খাওয়ার পরে ওই দুষ্কৃতী সুরজকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল।

Advertisement

সোমবার রাতে আট দুষ্কৃতী ক্লাবে বসেই সুরজকে খুনের ছক কষে। সেই অনুযায়ী পরের দিন ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ মাখলায় নাগপুরিয়া বস্তিতে সুরজের বাড়িতে যায় তারা। সুরজ তখন বাড়ির খোলা বারান্দায় দাদার সঙ্গে চাদর গায়ে ঘুমোচ্ছিল। দুষ্কৃতীরা সুরজের কপালে গুলি করে পালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, একনলা ‘মুঙ্গেরি’ রিভলভার কপালে ঠেকিয়ে ওই কিশোরকে গুলি করা হয়। নিহতের বাবা, পেশায় দুধ বিক্রেতা শ্যামনন্দন রায় উত্তরপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানান, ‘অপারেশন’ সেরেই দুষ্কৃতীদের ছ’জন গা-ঢাকা অন্য রাজ্যে গা ঢাকা দেয়। তবে মাখলার নবপল্লির বাসিন্দা অমিত এবং আর এক দুষ্কৃতী উত্তরপাড়াতেই থেকে যায়। পুলিশের গতিবিধি এবং এলাকার বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া লক্ষ করার জন্যই তারা পালায়নি। সূত্র মারফত খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে উত্তরপাড়া থানার আইসি মধুসূদন মুখোপাধ্যায় মাখলা থেকে অমিতকে ধরেন। শনিবার ধৃতকে শ্রীরামপুর আদালতে হাজির করানো হয়। বিচারক তাকে ১৪ দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement