— প্রতীকী চিত্র।
বিনিয়োগের নামে করে কয়েক কোটি টাকার প্রতারণায় সাহায্য করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রাক্তন পোস্ট মাস্টারের বিরুদ্ধে। এ বার তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনার মূল অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ করঞ্জয়কে আগেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
গত বছর অক্টোবর মাসে অভিজিৎ মজুমদার নামের এক ব্যক্তি আর্থিক প্রতারণার শিকার হন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নামে। অভিযোগ, সিদ্ধার্থ নিজেকে পোস্ট অফিসের অনুমোদিত এজেন্ট হিসাবে পরিচয় দেন। এর পর তিনি পুনর্বিনিয়োগের নাম করে অভিজিতের ম্যাচিওর হওয়া ফিক্সড ডিপোজ়িটের টাকা তুলে তা অন্য অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দেন। জালিয়াতিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে অভিযুক্তেরা জাল পোস্ট অফিস পাসবুক এবং সার্টিফিকেট তৈরি করে দিতেন বলেও অভিযোগ। পরে সেই টাকা ফেরত না পেলে, প্রতারণার শিকার হন বলে বুঝতে পারেন অভিজিত। এর পর তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন।
পুলিশ সূত্রে খবর, যাদবপুর থানা ও লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ ঘটনার তদন্তে নেমে শনিবার রিজেন্ট এস্টেট পোস্ট অফিসের তৎকালীন পোস্ট মাস্টার দিলীপ কুমার জানাকে গ্রেফতার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওই জালিয়াতিকে সমর্থন ও সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে। জানা গিয়েছে, ডাক বিভাগের নিয়ম লঙ্ঘন করে সিদ্ধার্থকে সরাসরি সাহায্য করেছিলেন তৎকালীন পোস্ট মাস্টার দিলীপ। তাঁর সাহায্য ছাড়া এই বিপুল পরিমাণ টাকার জালিয়াতি সম্ভব ছিল না বলে দাবি পুলিশের। এই চক্রটি এখনও পর্যন্ত ২৫ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৮ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা হাতিয়েছে বলে অভিযোগ।
অভিযুক্ত পোস্ট মাস্টারকে আলিপুর আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে। এর আগে ভুয়ো এজেন্ট সিদ্ধার্থকেও গ্রেফতার করা হয়। তিনি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।