ফাইল চিত্র
কালীপুজোর আগে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক হিসেবে কাজে গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের ২০ জন। কারও বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা-গাইঘাটায়, কেউ থাকেন নদিয়ায়, কেউ শিলিগুড়িতে। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর ভয়ে এই মুহূর্তে বন্ধ মালয়েশিয়ার সব দোকানপাট, এমনকি আন্তর্জাতিক উড়ানও। স্তব্ধ ব্যবসা-বাণিজ্য। আতঙ্কে গৃহবন্দি ওই ২০ জন শ্রমিকও।
বাগদার বাসিন্দা বরুণ বিশ্বাস মালয়েশিয়া থেকে ফোনে বললেন, ‘‘আমরা এখানে নির্মাণকর্মী হিসেবে কাজ করি। যাঁর অধীনে কাজ করতাম, তাঁর খোঁজ নেই। কাজ বন্ধ থাকায় রোজগারও হচ্ছে না। জমানো টাকা ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে। দিন চারেক আগে বাজার থেকে খাবার কিনে এনেছিলাম। আর এখন তো সব দোকান বন্ধ। কোনও রকমে ধার-দেনা করে চালাচ্ছি। বাড়িতে বয়স্ক মা-বাবা, স্ত্রী, মেয়ে রয়েছে। ওদের যে কী অবস্থা!’’ তাঁর স্ত্রী রুম্পা বিশ্বাস বলেন, ‘‘স্বামীর পাঠানো টাকাতেই আমাদের সংসার চলে। কিন্তু এখন ওঁর কাজ বন্ধ। দেশেও ফিরতে পারছে না। রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের কাছে আমাদের অনুরোধ, ওঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন।’’
আপাতত ৩১ মার্চ পর্যন্ত মালয়েশিয়া থেকে কলকাতার সমস্ত উড়ান বন্ধ। বরুণের কথায়, ‘‘কলকাতার ফেরার জন্য ৮ এপ্রিলের টিকিট কেটে রেখেছিলাম। কিন্তু এই মুহূর্তে যা অবস্থা, তাতে ৩১ মার্চের পরেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কি না জানি না। সব মিলিয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটছে।’’ তাঁর মতো অসহায় অবস্থা বাগদারই আহতাপ মণ্ডল, বরুণ প্রামাণিকের। আহতাপের ভাই মোর্শেদ মণ্ডল বলেন, ‘‘দাদার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ রাখছি। ওঁদের ওখানে কাজ বন্ধ। সকালে কথা বলতে বলতে দাদা তো কেঁদেই ফেললেন। এক সপ্তাহ আগে দোকান থেকে খাবার কিনে এনেছিলেন। সেই খাবারও প্রায় শেষ হওয়ার মুখে।’’ বরুণ প্রামাণিকের স্ত্রী অসীমা প্রামাণিক বলেন, ‘‘আমার স্বামীরও কাজ বন্ধ। ঠিক মতো খাওয়াদাওয়া করতে পারছে না। সুস্থ অবস্থায় উনি বাড়ি ফিরে আসুন, আপাতত এটুকুই শুধু চাইছি।’’
মালয়েশিয়ায় যে অঞ্চলে ভাড়া থাকেন আহতাপ, বরুণেরা, সেখান থেকে একটু দূরে থাকেন গাইঘাটার গৌতম মণ্ডল, নদিয়ার অমরেশ পাল, শিলিগুড়ির মাটিগাড়ার করুণ বর্মণ। তাঁদেরও এখন কার্যত বন্দিদশা। প্রত্যেকেরই আর্জি, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার আমাদের শীঘ্র দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করলে কৃতজ্ঞ থাকব।’’ কবে তাঁরা নিরাপদে বাড়ি ফিরবেন, সেই আশাতেই এখন দিন গুনছেন গৌতম-অমরেশ-করুণেরা।