Death

Death: এক রাতেই পর পর মৃত্যু মা ও বাবার, অনাথ বালক

ময়না-তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট আসার পরেই রহস্য কাটতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২২ ০৮:৪৩
Share:

শোকাহত: পিঙ্কি ও রাজেশের মৃত্যুর পরে এক পরিজনের সঙ্গে তাঁদের ছেলে (বাঁ দিকে)। বুধবার, বেহালায়। ছবি: রণজিৎ নন্দী

ডান হাতের কনুইয়ে অসহ্য ব্যথা। সেই হাত নাড়াতে পর্যন্ত পারা যাচ্ছিল না। ফলে পরিচারিকার কাজ থেকে এক রকম ছুটিই নিয়ে নিতে হয়েছিল তাঁকে। ভেবেছিলেন, ডাক্তার দেখিয়ে ফের কাজে যোগ দেবেন। কিন্তু তা আর হল না বেহালার বি এল শাহ রোডের বাসিন্দা পিঙ্কি ঘরামির। মঙ্গলবার রাত ১২টা নাগাদ রহস্যজনক ভাবে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলন্ত দেহ মেলে বছর পঁয়ত্রিশের ওই মহিলার। স্ত্রীর মৃতদেহ দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েন শ্বাসকষ্টে ভোগা স্বামী। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু হয় তাঁরও। এক রাতের মধ্যেই বাবা-মা দু’জনকে হারিয়ে তাঁদের ১২ বছরের ছেলে এখন বুঝতেই পারছে না, সে থাকবে কার কাছে!

Advertisement

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রের খবর, স্বামী ও ছেলের সঙ্গে বি এল শাহ রোডেই থাকতেন পিঙ্কি। সেখানেই তাঁর স্বামী রাজেশের (৪২) একটি মুরগির মাংসের দোকান রয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১২টা নাগাদ তাঁদের টালির চালের ঘরে পিঙ্কিকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখেন প্রতিবেশীরা। তার কিছু ক্ষণ আগেই স্ত্রীকে ভাত বাড়তে বলে বাইরে বেরিয়েছিলেন রাজেশ। তাঁকে দ্রুত ডেকে আনেন
প্রতিবেশীরা। তত ক্ষণে পিঙ্কিকে গলার ফাঁস খুলে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর পরে দ্রুত ওই মহিলাকে নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। স্ত্রীকে ওই অবস্থায় দেখে ভেঙে পড়া রাজেশকে তখনকার মতো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি। রাজেশের এক বোন বুধবার বলেন, ‘‘রাজেশ এমনিতেই শ্বাসকষ্টে ভুগত। তাই ওকে প্রথমে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি। কিন্তু পিঙ্কিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতেই সেখান থেকে বলে দেওয়া হয়, ও আর বেঁচে নেই। তাই ওকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। এর মধ্যেই খবর পৌঁছয় রাজেশের কানে। তখন ওই অবস্থাতেই নিজের সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ে ও।’’

কিন্তু স্ত্রীকে কোন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা বুঝতে না পেরে রাজেশ প্রথমে বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে কাউকে দেখতে না পেয়ে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। এক প্রতিবেশীর দাবি, ‘‘বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে মাটিতে শোয়ানো অবস্থায় দেখে প্রবল কান্নাকাটির মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন রাজেশ। চোখে-মুখে জল দিতে শৌচাগারে গেলে সেখানেই মাথা ঘুরে পড়ে যান।’’ এর পরে রাজেশকে নিয়ে যাওয়া হয় বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু সেখানকার চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, রাজেশের মৃত্যু হয়েছে। এর পরে দু’টি মৃতদেহ বাড়ির কাছে একটি ফাঁকা জায়গায় রেখে ফোন করা হয় বেহালা থানায়। পুলিশ গিয়ে মৃতদেহ দু’টি ময়না-তদন্তের জন্য পাঠায়।

Advertisement

দু’টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও এই ঘটনায় রহস্য তৈরি হয়েছে। একাধিক ব্যাপারে অসঙ্গতিও রয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। তাঁদের প্রশ্ন, পিঙ্কিকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও ডেথ সার্টিফিকেট না নিয়েই চলে আসা হল কেন? হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছলেও সেখানকার পুলিশ আউটপোস্ট থেকে কেন বেহালা থানায় খবর দেওয়া হল না? তবে কি হাসপাতালের পুলিশ আউটপোস্টেও এই মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার খবর ছিল না?

রাজেশের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়েও রহস্য তৈরি হয়েছে। যদিও ময়না-তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট আসার পরেই রহস্য কাটতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। বুধবার রাত পর্যন্ত অবশ্য কোনও তরফেই কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।

এ দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পিঙ্কি আর রাজেশের ছেলে নিখিল কেঁদেই চলেছে। কোনও মতে সে বলল, ‘‘বাবা কখনও মাকে বকেনি। মা কেন এমন করল, জানি না। এখন আমি কার কাছে থাকব?’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement