—প্রতীকী চিত্র।
প্রায় ঢিল ছোড়া দূরত্বে থানা। তার কাছেই দু’পক্ষের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল গড়িয়াহাটের কাঁকুলিয়া রোড এলাকা। রবিবার রাতের ওই ঘটনায় এক পক্ষের বিরুদ্ধে গুলি চালানোরও অভিযোগ উঠেছে। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। ঘটনায় রাম দাস নামে এক যুবককে সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার রাতে ৩ নম্বর কাঁকুলিয়া রোডে একটি বস্তির সামনে গল্প করছিলেন কলকাতা পুরসভার ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডের যুব তৃণমূল নেতা সুজ্জিত রায় ও স্থানীয় তৃণমূল কর্মী রতন সাউ। সাড়ে আটটা নাগাদ সেখানে হাজির হয় বন্ডেল গেটের বাসিন্দা, বাবু তিওয়ারি নামে এক যুবক। তার সঙ্গে মোটরবাইকে ছিল আরও দশ জন। সুজ্জিত বলেন, ‘‘বাবু হঠাৎ দলবল নিয়ে বস্তির মহিলাদের ডেকে বৈঠক করতে শুরু করে। আমি ও রতন আপত্তি করায় তখনকার মতো সে চলে যায়।’’ তাঁর অভিযোগ, রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ বাবু প্রায় কুড়ি জন সঙ্গীকে নিয়ে বাইকে চেপে রতন সাউয়ের বাড়ির সামনে আসে। ওই যুবকেরা রতনকে রাস্তায় ফেলে মারতে শুরু করে। রতনের অভিযোগ, ‘‘আমাকে ওরা রাস্তায় ফেলে কিল-ঘুষি মারে। ছেলে আমায় বাঁচাতে এলে সে-ও মার খায়।’’
পুলিশ জেনেছে, ওই যুবকেরা পালিয়ে যাওয়ার সময়ে রতনের লোকজন মোটরবাইকের পিছু ধাওয়া করে। রতনের আরও অভিযোগ, ‘‘ওদের হাতে পিস্তল ছিল। চলে যাওয়ার সময়ে ফার্ন রোডের একটি ক্লাবের ছেলেদের ফোন করে আমি ঘটনার কথা জানাই।’’ ওই ক্লাবের সম্পাদক সুজয় মানের অভিযোগ, ‘‘রতনের ফোন পেয়ে আমি ফার্ন রোডের সামনে বাবুকে আটকাই। তখন বাবুর সঙ্গীরা শূন্যে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালায়।’’
ঘটনার পর পরই বাবু, রাম দাস ও সুজিত-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ দায়ের করেন রতন। অন্য দিকে বাবুও পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনার সময়ে কে বা কারা উপস্থিত ছিল তা জানতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা হবে। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের সামনে একটি দোকানে থাকা সিসি ক্যামেরায় জনা কুড়ি যুবককে দেখা গিয়েছে। তাদের মধ্যে এক জনের হাতে পিস্তল ছিল।
কেন এমন ঘটল?
স্থানীয় তৃণমূল কর্মী বাবুল দেবের অভিযোগ, ‘‘বাবু বছরখানেক আগে তৃণমূলে যোগ দিলেও সপ্তাহ দেড়েক আগে বিজেপিতে যোগ দেয়। বদলা নিতেই সে হামলা চালিয়েছে।’’ যদিও এলাকাবাসীর একাংশ এই ঘটনাকে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব হিসেবে দেখছেন। এক বাসিন্দার অভিযোগ, ‘‘বাবু তিওয়ারি স্থানীয় কাউন্সিলর সুদর্শনা মুখোপাধ্যায়ের ডান হাত। পাওনা নিয়ে ঝামেলার জেরেই সে দলবল নিয়ে রতনকে মেরেছে।’’
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলর সুদর্শন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘রবিবার রাতের ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির যোগ নেই। আমি রতন বা বাবু কাউকেই চিনি না। ওই রাতে পৌনে দশটা নাগাদ ওয়ার্ডের এক জন আমাকে ফোনে জানান, রাম দাস নামে এক দুষ্কৃতী কাঁকুলিয়া রোডে গুলি চালিয়েছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে ওসি-কে ফোন করি। পুলিশ তখনই গিয়ে পরিস্থিতি সামলায়।’’ তবে যুগ্ম কমিশনার (সদর) সুপ্রতিম সরকার বলেন, ‘‘গড়িয়াহাটের ওই ঘটনায় কোনও গুলি চলেনি।’’