Lionel Messi Statue

লেকটাউনে হাওয়ায় দুলছিল মেসি মূর্তি! সমস্যা ফাউন্ডেশন বোল্টে, পূর্ত দফতরের ঠিকাদারের মতে, কাঠামো সরিয়ে ফেলাই নিরাপদ

ভিআইপি রোড পারাপারের জন্য লেকটাউনের যে এলাকায় ভূগর্ভস্থ পথ তৈরি হয়েছে, তার উপরের অংশে বসানো রয়েছে মেসির মূর্তি। গত বছরের ডিসেম্বরের মেসির কলকাতা সফরের সময়ে এই ৭০ ফুটের মূর্তি উন্মোচন হয়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ১৬:২৮
Share:

লেকটাউনে লিয়োনেল মেসির মূর্তি। —ফাইল চিত্র।

লেকটাউনে লিয়োনেল মেসির মূর্তি হাওয়ায় নড়ছে— এই মর্মে সোমবার দুপুরে খবর যায় থানায়। পথচলতি মানুষ এবং স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে বিষয়টি দেখেন। তাঁরাই খবর দেন লেকটাউন থানায়। পুলিশও খবর দেয় পূর্ত দফতরে। পরে পুলিশ এবং পূর্ত দফতরের কর্মীরা লেকটাউনে গিয়ে ওই মূর্তি খতিয়ে দেখেন।

Advertisement

পূর্ত দফতরের ঠিকাদার প্রবীর পালও যান লেকটাউনে। তাঁর দাবি, মূর্তির ‘ফাউন্ডেশন বোল্ট’-এ গোলমাল রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তাঁরা ইতিমধ্যে বিষয়টি জানিয়েছেন। ঠিকাদারের দাবি, মূর্তিটি বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। যে কোনও সময়ে তা পড়ে যেতে পারে। তাই ওই এলাকা থেকে মূর্তিটি সরিয়ে নেওয়া উচিত বলেই মনে করছেন তিনি।

ওই ঠিকাদার বলেন, “এখানে এসে দেখলাম, মেসি পুরো দুলছে। হাওয়া দিলেই দুলছে। পা দু’টো উঁচুনীচু হয়ে একবার উঠছে, একবার নামছে। এর জন্য যে কোনও সময়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। হাওয়ায় পড়ে যেতে পারে নীচে। আমরা রিপোর্ট দেব। তার পরে যা জানানো হবে, সেই অনুযায়ী কাজ করা হবে।”

Advertisement

লেকটাউনের ওই মূর্তি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “এখান থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত। এখানে কী অবস্থায় ফাউন্ডেশন বোল্ট রয়েছে, তা তো আমরা জানি না। অতএব, ফাউন্ডেশন বোল্ট নতুন করে করলে এগুলো ঠিক থাকবে। তা ছাড়া এগুলো যে কোনও মুহূর্তে উল্টে যেতে পারে।”

ভিআইপি রোড পারাপারের জন্য লেকটাউনের যে এলাকায় ভূগর্ভস্থ পথ তৈরি হয়েছে, তার উপরের অংশে বসানো রয়েছে মেসির মূর্তি। গত বছরের ডিসেম্বরের মেসির কলকাতা সফরের সময়ে এই মূর্তির উন্মোচন হয়। আর্জেন্টেনীয় ফুটবল তারকা নিজে হাতে রিমোটের বোতাম টিপে মূর্তি উন্মোচন করেন। মেসির ওই ৭০ ফুট দীর্ঘ মূর্তিটি নিয়ে অতীতে হাই কোর্টে মামলাও হয়। ওই মূর্তি সরকারি জমির উপর বসানো হয়েছিল কি না, তা নিয়েও আদালতে প্রশ্ন উঠেছিল। ওই মূর্তি বসানোর নেপথ্যে ছিলেন রাজ্যের পূর্বতন সরকারের মন্ত্রী সুজিত বসু। সম্প্রতি পুরনিয়োগ মামলায় সুজিতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, মেসির ওই কলকাতা সফরের সময়ে যুবভারতী স্টে়ডিয়ামে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। মেসিকে দেখতে হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে সল্টলেক স্টেডিয়ামে যান তাঁর ভক্তেরা। কিন্তু মেসি মাত্র ১৬ মিনিট মাঠে ছিলেন। চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার কারণে নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। অভিযোগ, এক মুহূর্তের জন্যেও মেসিকে দেখা যায়নি গ্যালারি থেকে। এর পরেই ক্রোধে উন্মত্ত জনতা তাণ্ডব চালায় স্টেডিয়াম জুড়ে। মাঠে ছোড়া হয় বোতল, ভাঙা চেয়ার। যুবভারতীকাণ্ড নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement