আরজি কর হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির সদস্য তথা তৃণমূল বিধায়ক অতীন ঘোষ। —ফাইল চিত্র।
লিফ্ট বিপর্যয় নিয়ে সোমবার বৈঠকে বসার কথা ছিল আরজি কর হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির। কিন্তু হল না। হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় অনুপস্থিত। তিনি গিয়েছেন স্বাস্থ্য ভবনে। সমিতির অন্যতম সদস্য তথা বিদায়ী বিধায়ক অতীন ঘোষও এখন বিধানসভা ভোটের প্রার্থী। তিনি বৈঠকে থাকলে আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বসলই না রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠক। অতীন জানান, বুধবার এই বৈঠক হবে।
বৈঠক বাতিল প্রসঙ্গে অতীন বলেন, “ওঁরা (রোগীকল্যাণ সমিতির অন্য সদস্যেরা) ভাবছিলেন যে আমি থাকতে পারব না। তাই বাতিল করেছে। কারণ, স্বাস্থ্য ভবন জানিয়েছে, আদর্শ আচরণবিধি অনুযায়ী আমি নাকি থাকতে পারি না। কারণ, আমি একটি দলের প্রার্থী। আমি বলেছি, রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠকটা আপনারা (বাকি সদস্যেরা) করতে পারেন। কিন্তু এমএসভিপি-কে লিফ্ট বিভ্রাট নিয়ে তদন্তের জন্য ডেকে পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন। তিনি স্বাস্থ্য ভবনে গিয়েছেন। কিন্তু আমি বলেছি বৈঠক ডাকতে হবে। আগামী পরশু বৈঠক হবে।”
আরজি করের রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠকে অতীনের থাকার ক্ষেত্রে কি কোনও বাধা হতে পারে আদর্শ আচরণবিধি? এ বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট নয় বিদায়ী বিধায়ক তথা কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীর কাছেও। তিনি বলেন, “আমি জানি না এই নিয়মটা। আমি এখন বিধানসভায় যাচ্ছি। গিয়ে খোঁজ নেব।”
কার গাফিলতির জেরে আরজি কর হাসপাতালে লিফ্টে আটকে পড়ে ৪০ বছর বয়সি যুবকের মৃত্যু হল, তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালের অগস্টে এই আরজি করেই রাতের ডিউটিতে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছিল। তখনও প্রশ্ন উঠেছিল নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে। তার পরেও কেন ছবিটা বদলাল না? তা নিয়ে বিতর্কের মাঝেই রোগীকল্যাণ সমিতির এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল সোমবার।
অতীন নিজেই গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন বৈঠকের কথা। তিনি বলেছিলেন, ‘‘যাঁরা এই সমস্ত ক্ষেত্রে দায়িত্বে আছেন, তাঁরা দায় এড়াতে পারেন না। লিফ্ট পূর্ত দফতরের অধীনে। সেটা ঠিক মতো না চললে এখানে দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের দায় নিতে হবে। নিরাপত্তারক্ষীরা ঘটনাস্থলে না-থাকলে, সেটা তাঁদের দায়িত্ব। সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’’
তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেই বৈঠক পিছিয়ে গেল। বুধবার বৈঠকে বসবে আরজি করের রোগীকল্যাণ সমিতি। সোমবারের বৈঠক বাতিল হওয়ার কথা ঘোষণার সময়ে অতীন বলেন, “আমি বলেছি, আপনাদের যা যা প্রয়োজন, যেগুলি সরকারি ভাবে পেতে অসুবিধা হচ্ছে, সেগুলির জন্য রোগীকল্যাণ সমিতির তহবিল ব্যবহার করুন। আমি আগেও দেখেছি, পদস্থ আধিকারিকেরা অধ্যক্ষ, এমএসভিপি, ডেপুটি সুপার-সহ আধিকারিকেরার পর্যায়ক্রমে হাসপাতাল পরিদর্শনে বেরোন। পরিষেবা ঠিকঠাক চলছে কি না, তা পরিদর্শন করেন তাঁরা। এতে নিচুতলার কর্মীরাও সতর্ক থাকেন। সেই বিষয়টি দেখুন।”
একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “যাঁরা ঠিক ভাবে কাজ করবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিন। কোনও রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করবে না, আমি স্থানীয় বিধায়ক হিসাবে কথা দিচ্ছি। এই পর্যায়ক্রমিক পরিদর্শনকে অবিলম্বে শুরু করতে হবে। যেখানে দুর্বলতা ধরা পড়বে, সেখানে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করতে হবে। শুধু অনুসন্ধান কমিটি গড়ে দিলে হবে না। মানুষ দেখতে চায় দোষীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে।”