Girish Park Incident

গিরিশ পার্কে অশান্তি, মন্ত্রীর বাড়িতে হামলা: স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু পুলিশের, দেওয়া হল খুনের চেষ্টার ধারাও! ধৃত চার

গিরিশ পার্কে অশান্তি থামাতে গিয়ে আক্রান্ত হয় পুলিশও। দু’পক্ষের অশান্তির মধ্যে পড়ে আহত হন বৌবাজার থানার ওসি। পুলিশ পরে জানায়, ওই ঘটনায় আট জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ২২:৪৩
Share:

গিরিশ পার্কের অশান্তির ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু কলকাতা পুলিশের। —নিজস্ব চিত্র।

গিরিশ পার্কে অশান্তির ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করল কলকাতা পুলিশ। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় আর কারা কারা জড়িত, খোঁজও শুরু করেছে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত করছে গিরিশ পার্ক থানার পুলিশ। তবে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক দল অভিযোগ জানায়নি।

Advertisement

শনিবার দুপুরে ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা ছিল। সেই সভায় যোগ দিতে বিভিন্ন জায়গা থেকে কর্মী-সমর্থকেরা আসেন। মোদীর সভা শুরুর আগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গিরিশ পার্ক এলাকা। তৃণমূলের অভিযোগ, মোদীর সভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় একদল বিজেপি কর্মী রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন। বিজেপি-র পাল্টা অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীরা তাদের বাস লক্ষ্য করে ইট ছোড়েন। আহত হন বেশ কয়েক জন বিজেপি কর্মী। ব্রিগেডগামী বাসেও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে বিজেপি।

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। নামানো হয় র‌্যাফও। তারা টহলদারি শুরু করে এলাকায়। পুলিশ তখনই জানিয়েছিল, এই অশান্তির ঘটনায় যাঁরা জড়িত, তাঁদের খুঁজে বার করা হবে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা শুরু করে পুলিশ। তার পরেই পুলিশের তরফে গিরিশ পার্কের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়। অবৈধ ভাবে জমায়েত, খুনের চেষ্টা, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা, অস্ত্র দিয়ে আঘাত, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর-সহ বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। এ ছাড়াও ডব্লিউবিএমপিও আইনের ধারাও যোগ করা হয়েছে।

Advertisement

গিরিশ পার্কে অশান্তি থামাতে গিয়ে আক্রান্ত হয় পুলিশও। দু’পক্ষের অশান্তির মধ্যে পড়ে আহত হন বৌবাজার থানার ওসি। পুলিশ পরে জানায়, ওই ঘটনায় আট জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন।

বিজেপি নেতা সজল ঘোষের দাবি, তাঁদের দলের তিন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন চরঞ্জিৎ সিংহ, সানি দে এবং কৃশানু বসু। বরাহনগর এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে। সজলের কথায়, ‘‘ওরা নির্দোষ। অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে।’’ এই গ্রেফতারির প্রতিবাদে বরাহনগর থানা ঘেরাও করেছে বিজেপি।

ইতিমধ্যেই গিরিশ পার্কের অশান্তির ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। গিরিশ পার্কের অশান্তির ঘটনা নিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement