Alipore Zoological Garden

গরমে বিশেষ ডায়েট, আলিপুর চিড়িয়াখানায় পশুদের জন্য ফল, ইলেক্ট্রোলাইট ও ‘আইস ট্রিট’-এর বাড়তি ব্যবস্থা

তৃণভোজী প্রাণীদের জন্য জলসমৃদ্ধ ফলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ানো হয়েছে। হাতি, হরিণ, বানরদের নিয়মিত খাবারের সঙ্গে এখন তরমুজ, বাঙ্গি, শসা ও আনারসের মতো রসালো ফল যোগ করা হচ্ছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৫১
Share:

আলিপুর চিড়িয়াখানায় গলদঘর্ম অবস্থা পশুপাখিদের। ফাইল ছবি।

তীব্র গরমে পশুদের সুস্থ রাখতে বিশেষ খাদ্যতালিকা ও কুলিং ব্যবস্থার উপর জোর দিচ্ছেন আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকায় চিড়িয়াখানার বাসিন্দাদের শরীর ঠান্ডা রাখা, জলশূন্যতা রোধ করা এবং সহজপাচ্য পুষ্টি নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য। সেই কারণে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় আনা হয়েছে একাধিক মৌসুমি ও হাইড্রেটিং পরিবর্তন।

Advertisement

চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণভোজী প্রাণীদের জন্য জলসমৃদ্ধ ফলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ানো হয়েছে। হাতি, হরিণ, বানরদের নিয়মিত খাবারের সঙ্গে এখন তরমুজ, বাঙ্গি, শসা ও আনারসের মতো রসালো ফল যোগ করা হচ্ছে। এই ফলগুলি শরীরে জল ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং গরমে স্বস্তি দেয়। শুধু তাই নয়, ডিহাইড্রেশন রোধে অনেক প্রাণীকেই দেওয়া হচ্ছে ওআরএস মিশ্রিত জল বা হালকা গ্লুকোজ। কিছু ক্ষেত্রে ফলের রসও সরবরাহ করা হচ্ছে, যাতে শরীরে প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় থাকে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, এই বিশেষ তরল খাদ্য গরমে প্রাণীদের শক্তি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।

অন্য দিকে, মাংসাশী প্রাণীদের ক্ষেত্রেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। বাঘ ও সিংহের মতো প্রাণীর জন্য মাংসের পরিমাণ কিছুটা নিয়ন্ত্রিত রেখে তাজা ও সহজপাচ্য খাবার দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় মাংস বরফে সংরক্ষণ করে ঠান্ডা অবস্থায় পরিবেশন করা হচ্ছে, যাতে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়া গরমে স্বস্তি দিতে চালু হয়েছে ‘আইস ট্রিট’। ফল বা মাংস বরফের মধ্যে জমিয়ে আইস ব্লক তৈরি করে প্রাণীদের দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা খেলাধুলা করতে পারে, আবার একই সঙ্গে শরীরও ঠান্ডা থাকে। তৃণভোজী অন্যান্য প্রাণীদের জন্য সবজি ও ফাইবারযুক্ত খাবারও বাড়ানো হয়েছে। গরু, জিরাফ প্রভৃতির খাদ্যতালিকায় সবুজ ঘাস, পাতা, গাজর ও কুমড়োর মতো উপাদান যোগ করা হয়েছে, যা হজমে সহায়ক এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।খাবারের পাশাপাশি নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও। পর্যাপ্ত পানীয় জল, ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল, স্প্রিংকলার, জলাধার এবং কুলিং সিস্টেম চালু রাখা হয়েছে চিড়িয়াখানার বিভিন্ন অংশে। সব মিলিয়ে গরমের দাপটে যাতে কোনও প্রাণীর স্বাস্থ্যের অবনতি না হয়, সেদিকেই নজর দিচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement