Coronavirus

মৃতদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ প্রক্রিয়া বন্ধের ভাবনা?

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও রোগীর সারি (সিভিয়র অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশন) এবং আইএলআই (ইনফ্লুয়েঞ্জা লাইক ইলনেস) উপসর্গ থাকলে তাঁর নমুনা পরীক্ষা করতে হবে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২০ ০৫:২১
Share:

প্রতীকী ছবি

এক সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে মৃতদেহ-বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হল। করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট দেরিতে আসায় এন আর এসের মর্গে দীর্ঘদিন দেহ পড়ে থাকার খবর ইতিমধ্যে সামনে এসেছে। সেই সমস্যার সমাধানে নমুনা পরীক্ষার নিয়মে বদল আনতে পারেন এন আর এস কর্তৃপক্ষ। রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে সে রকমই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে রবিবার জানান সমিতির চেয়ারম্যান শান্তনু সেন। তিনি জানিয়েছেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা সন্দেহভাজন রোগীর নমুনা সংগ্রহের আগেই যদি তিনি মারা যান, তবে মৃত্যুর পরে তাঁর আর নমুনা পরীক্ষা হবে না। স্বাস্থ্য ভবনের সঙ্গে আলোচনা করে সর্বসম্মত ভাবে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। অসমর্থিত সূত্রের খবর, শুধু এন আর এস-ই নয়, রাজ্যের আরও কিছু মেডিক্যাল কলেজ ও কোভিড হাসপাতালে ইতিমধ্যেই মৃতদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

Advertisement

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও রোগীর সারি (সিভিয়র অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশন) এবং আইএলআই (ইনফ্লুয়েঞ্জা লাইক ইলনেস) উপসর্গ থাকলে তাঁর নমুনা পরীক্ষা করতে হবে। সেই মতো হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এ ধরনের কোনও রোগীর নমুনা সংগ্রহের আগেই মৃত্যু হলে, মৃত্যুর ছ’ঘণ্টার মধ্যে তাঁর দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষা করা হত। এই পদ্ধতিতে বদলের যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে শান্তনু জানান, রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত পরিজনেরা মৃতদেহ পাচ্ছেন না। এ ভাবে এক দিকে মর্গে দেহ যেমন পড়ে থাকছে, তেমনই করোনা না কি করোনা নয়, তা জানতে না পেরে উদ্বেগে দিন কাটছে পরিজনদের। তাই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই পরিকল্পনার কথা ভাবা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘‘কোভিড পরীক্ষা করানোর আগে করোনা সন্দেহভাজন ব্যক্তির মৃত্যু হলে মর্গে আর মৃতদেহের নমুনা পরীক্ষা হবে না। তবে মৃতের সংস্পর্শে যাঁরা আসবেন তাঁদের পরীক্ষা হবে। সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা প্রোটোকল মেনেই কোয়রান্টিনে থাকবেন। স্বাস্থ্য ভবনের আধিকারিক, অধ্যক্ষ, সুপার, মেডিসিন এবং ফরেন্সিক বিভাগের প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করে এ কথা ভাবা হয়েছে।’’ করোনা পরীক্ষা না হলেও মৃত ব্যক্তির সৎকার কোভিড ধরেই করা হবে বলে জানিয়েছেন শান্তনু।

Advertisement

স্বাস্থ্য ভবনের এক পদস্থ আধিকারিকও এ দিন বলেন, ‘‘করোনা সন্দেহভাজন মৃতদেহের পরীক্ষা করানো মানে রসদের অপচয় ছাড়া কিছু নয়। মৃতদেহের নমুনা পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন নেই। এ বিষয়ে আমাদের একটা নির্দেশ জারির কথা রয়েছে।’’

সম্প্রতি দিল্লি, কর্নাটকেও মৃত ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই বলে নির্দেশিকা জারি হয়েছিল। কিন্তু বিতর্কের মুখে পড়ে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হয়। এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য ছিল, সংক্রমণ রোধে করোনা সন্দেহভাজনের নমুনা পরীক্ষা করানো আবশ্যক। আইসিএমআরের নির্দেশেও তা রয়েছে। পাশাপাশি, মৃত ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা না হলে কীসের ভিত্তিতে আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খোঁজ করা হবে। সংক্রমণের গতিবিধি বোঝার প্রশ্নে মৃত্যুর পরিসংখ্যান একটি অন্যতম সূচক। যাঁদের নমুনা পরীক্ষা হবে না, তাঁদের করোনা-মৃত্যু হিসেবে ধরা হবে কি না, সেই প্রশ্নও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। প্রত্যেক করোনা-সন্দেহভাজনদের নমুনা পরীক্ষা না হলে করোনায় কত জনের মৃত্যু কী ভাবে বোঝা যাবে। প্রশ্ন উঠছে, মৃত্যুহার কমাতেই কী এই কৌশল।

সম্ভবত সেই বিতর্কের আভাস পেয়েই এন আর এসের এক প্রশাসনিক কর্তার পরামর্শ, এ বিষয়ে কিছু বলার আগে বিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা করা ভাল।

সব শুনে স্বাস্থ্য দফতরের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘‘এন আর এসের রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে কী হয়েছে জানা নেই। টেস্ট নিয়ে আইসিএমআরের নির্দেশিকায় কী রয়েছে দেখতে হবে। আইসিএমআরের নির্দেশিকায় যা নেই তেমন কিছু করা উচিত নয়।’’

আরও পড়ুন: কোভিড-আতঙ্কে বন্ধ সাঁতার প্রশিক্ষণ থেকে প্রতিযোগিতা

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement