কলকাতা দক্ষিণের তৃণমূল সাংসদ মালা রায়। —ফাইল চিত্র।
অস্ত্র আইন সংক্রান্ত মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন কলকাতা দক্ষিণের তৃণমূল সাংসদ মালা রায়। তাঁর এবং তাঁর পুত্র নির্বাণ রায়ের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করা হয়েছিল। সেই মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান মালা। দেড় হাজার টাকার বন্ডে আদালত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেছে।
গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলঘোষণা হয়। অভিযোগ, ওই দিন সন্ধ্যায় বিজেপি কর্মীদের অস্ত্র উঁচিয়ে ভয় দেখান মালা। তাঁর বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। অভিযোগ, টালিগঞ্জ এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন তাঁরা। এই ঘটনার পর টালিগঞ্জ থানায় মালা এবং তাঁর পুত্রের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। পুলিশ অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করে। তাঁরা ছাড়াও অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। সেই মামলাতেই নিজে থেকে পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে আদালতে গিয়ে সাংসদ আত্মসমর্পণ করলেন। বুধবার আলিপুর আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানান মালা। তাঁদের আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।
বিজেপি কর্মীদের ভয় দেখানোর অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন মালা। তাঁর পাল্টা দাবি, মিথ্যা মামলায় তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। আদালত চত্বর থেকে তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘‘মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।’’
একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এ রাজ্যে প্রথম বার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথম থেকেই তৃণমূলকে কড়া বার্তা দিয়ে আসছেন। পুলিশ ধরপাকড়ও শুরু করেছে রাজ্য জুড়ে। একাধিক তৃণমূল নেতা-কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে একাধিক কাউন্সিলরকেও। এই পরিস্থিতিতে অস্ত্র আইনে মামলার ভিত্তিতে মালা গ্রেফতারির আশঙ্কা করছিলেন বলে অনেকের দাবি। সেই কারণেই আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানান।
মালার কেন্দ্র দক্ষিণ কলকাতাকে তৃণমূলের ‘গড়’ বলা হত। বিজেপি ঝড়ে সেই গড়েও এ বার ধাক্কা লেগেছে। কলকাতা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভার মধ্যে চারটিতেই বিজেপি প্রার্থীরা জিতেছেন। ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়ে হেরে গিয়েছেন খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের দখলে রয়েছে কেবল কসবা, বালিগঞ্জ এবং কলকাতা বন্দর। অনেকের মতে, ভোটে দলের এই ভরাডুবির পর গ্রেফতারির সম্ভাবনা আঁচ করেই মালা আগেভাগে জামিনের আবেদন জানান।