পড়ে আছে বাস, ভোগান্তি

প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড কানেক্টরে গীতাঞ্জলি পার্কের কাছে প্রায় বছর দেড়েক পড়ে আছে একটি ভাঙাচোরা বাস। বাসটির চারপাশে জঞ্জালের স্তূপ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশ থেকে শুরু করে পুর-প্রশাসন, এ বিষয়ে কারও ভ্রূক্ষেপ নেই।

Advertisement

কৌশিক ঘোষ

শেষ আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০১৬ ০০:৪১
Share:

বাস ঘিরে জমেছে আবর্জনা। — নিজস্ব চিত্র।

প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড কানেক্টরে গীতাঞ্জলি পার্কের কাছে প্রায় বছর দেড়েক পড়ে আছে একটি ভাঙাচোরা বাস। বাসটির চারপাশে জঞ্জালের স্তূপ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশ থেকে শুরু করে পুর-প্রশাসন, এ বিষয়ে কারও ভ্রূক্ষেপ নেই।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রের খবর, বাসটি থাকার ফলে রাস্তার এক দিক পথচারীর চোখের আড়ালে চলে যায়। ফলে ব্যস্ত সময়ে বাসে ওঠা-নামায় অসুবিধা হয়। বাসের চারপাশ আবর্জনায় ভরে গিয়েছে। অভিযোগ, সেখানেই অনেকে মূত্রত্যাগও করেন। গত বর্ষায় বাসের ভিতরে জল জমেছিল। সেখানে মশার লার্ভাও মিলেছিল বলে জানান বাসিন্দারা। পুরসভাকে এ নিয়ে বারবার
জানানো সত্ত্বেও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

এলাকাটি কলকাতা পুরসভার ১০৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত, থানা গরফা। নিয়মানুযায়ী, কোনও বাস খারাপ হলে গ্যারাজে নিয়ে যাওয়ার কথা। তা হলে বাসটি এখানে পড়ে রয়েছে কেন? পুলিশ জানিয়েছে, নানা কারণে পুলিশ গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে রাখে। পরে মালিকরা আইনি কাগজপত্র দেখিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। কয়েক বছর আগেই বৈধ নথি না থাকায় স্থানীয় থানা বাসটি আটক করেছিল। পুলিশের অভিযোগ, বাসমালিককে আইনি কাগজপত্র দেখিয়ে বাসটি নিয়ে যেতে বলা সত্ত্বেও এখনও কেউ আসেনি।

Advertisement

বাসটিকে অন্যত্র রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না কেন? পুলিশ সূত্রে খবর, বাজেয়াপ্ত করা এই বাসটি স্থানান্তরের কোনও উপযুক্ত জায়গা নেই। সে কারণে বাধ্য হয়েই এ ভাবে রাস্তার ধারে রাখতে হয়েছে। এর জন্য যে সমস্যা হচ্ছে সে সম্পর্কেও পুলিশ ওয়াকিবহাল। তবে, বাসটিকে না-সরানো পর্যন্ত আশপাশ পরিষ্কার রাখারও আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অনেক সময় বাসটির পিছনে সার দিয়ে গাড়ি দাঁড় করানো থাকে। পুর-কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ওখানে ‘পার্কিং জোন’ নেই। তবু মাঝেমধ্যে গাড়ি রাখা থাকে। এ ব্যাপারেও পুলিশকে সতর্ক করা হয়েছে। বাসটি সরালেই সমস্যা মিটে যাবে। সেটি সরানোর ব্যাপারে কয়েক মাস আগেই পুলিশকে জানানো হয়েছে।

কলকাতা পুরসভার পার্কিং দফতরের মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার বলেন, ‘‘নিয়মানুযায়ী নির্দিষ্ট জায়গায় গাড়ি বা বাস দাঁড় করানোর কথা। না হলে তা অবৈধ। সেক্ষেত্রে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে হবে। স্থানীয় বরো চেয়ারম্যান এবং কাউন্সিলরের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেব।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement