নবান্ন। —ফাইল চিত্র।
রাজ্য সরকারি প্রশাসনে বড়সড় রদবদল ঘটিয়ে এক নির্দেশিকা জারি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সরকারি আদেশে জানানো হয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন দফতর, বোর্ড, স্বশাসিত সংস্থা এবং পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং-এ (পিএসইউ) কর্মরত মনোনীত সদস্য, অধিকর্তা ও চেয়ারম্যানদের পদের মেয়াদ অবিলম্বে শেষ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, ৬০ বছর বয়স পার হওয়ার পর যারা চুক্তির ভিত্তিতে বা পুনর্নিযুক্ত হয়ে চাকরিতে বহাল ছিলেন, তাদের কর্মকালের মেয়াদও এই নির্দেশের মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছে।
নবান্ন সূত্রের খবর, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের একটি পত্রের রেশ ধরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের অনুমোদনক্রমে জারি করা এই আদেশে পরিষ্কার জানানো হয়েছে যে, যে সকল অ-বিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারি দফতরে মনোনয়ন বা বর্ধিত মেয়াদে আধিকারিকরা কাজ করছিলেন, তাদের নিয়োগপ্রক্রিয়া অবিলম্বে কার্যকর ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে।
কারা রয়েছেন এই তালিকায়?
বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে সংযুক্ত পাঁচ পৃষ্ঠার দীর্ঘ তালিকায় ২৪৩ জন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যারা সরাসরি এই নির্দেশের আওতায় পড়েছেন। তালিকায় রয়েছেন আইএএস, আইপিএস, আইএফএস এবং ডব্লিউবিসিএস পদমর্যাদার একাধিক অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক। উল্লেখযোগ্য ভাবে অর্থ দফতর, স্বরাষ্ট্র দফতর, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দফতরের একটি বড় অংশের আধিকারিকদের মেয়াদ ফুরিয়েছে।
তালিকায় থাকা বিশিষ্ট নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন অর্থ দফতরের সৌরেন্দ্রনাথ দত্ত ও অসীম মণ্ডল, স্বরাষ্ট্র দফতরের স্বপন কুমার চক্রবর্তী এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের প্রভু দত্ত ডেভিড প্রধানের মতো আধিকারিকেরা। এ ছাড়া লোকায়ুক্ত দফতর, রাজ্য ভিজিল্যান্স কমিশন এবং মুখ্যমন্ত্রী কার্যালয়ের বেশ কিছু পুনর্নিযুক্ত আধিকারিকের নামও তালিকায় রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই তালিকাটি মূলত ‘ইন্ডিকেটিভ’ বা ইঙ্গিতবাহী, অর্থাৎ দফতরের পক্ষ থেকে সময়ে সময়ে যে সকল নিয়োগ করা হয়েছিল, মূলত সেগুলির উপরই কোপ পড়েছে। নির্দেশিকাটি কার্যকর করার জন্য রাজ্যের সকল দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব, প্রধান সচিব এবং সচিবদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেলকেও বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত করা হয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে কিংবা প্রশাসনের উচ্চস্তরে নতুন মুখ নিয়ে আসার উদ্দেশ্যেই সরকার এই কড়া পদক্ষেপ করেছে। তবে হঠাৎ করে এত সংখ্যক অভিজ্ঞ আধিকারিকের বিদায় দৈনন্দিন কাজে কোনও প্রভাব ফেলে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সিনিয়র স্পেশ্যাল সেক্রেটারি স্বাক্ষরিত এই নির্দেশটি অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার ফলে নবান্ন-সহ বিভিন্ন জেলা স্তরের দফতরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।