কলকাতা মেট্রো। —ফাইল চিত্র।
উত্তর-দক্ষিণ মেট্রোর সবচেয়ে পুরনো এসি রেকগুলির বয়স প্রায় ১৫ বছর। ওই সব রেকের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার (ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম) মেয়াদও ফুরনোর মুখে। তবে, রেকগুলির বাইরের কাঠামোর মেয়াদ ফুরোতে অন্তত বছর দশেক বাকি রয়েছে। রাঁচীর ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস (ভেল)-এর তৈরি ওই রেকগুলির বৈদ্যুতিক মোটর এবং অন্যান্য ব্যবস্থা ডিসি কারেন্ট নির্ভর। পুরনো ক্যাম শ্যাফট কন্ট্রোলার প্রযুক্তির ওই রেক বিভিন্ন সময়ে তাপ উৎপন্ন হওয়ার কারণে ধোঁয়া এবং আগুনের বিপত্তি ঘটায়।
পুরনো প্রযুক্তির ওই সব রেকের বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ বদলের পরিবর্তে খড়্গপুর আইআইটি-র সাহায্য নিয়ে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এবং মোটরের প্রযুক্তি সম্পূর্ণ বদলাতে চান মেট্রো কর্তৃপক্ষ। মেট্রোর হাতে থাকা ১৩টি পুরনো বাতানুকূল রেকের মোটর এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার প্রযুক্তি বদলে সেগুলিকে এখনকার থ্রি ফেজ় এসি কারেন্টের রেকের সম মানে উন্নীত করা ওই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য।
মেট্রো সূত্রের খবর, খড়্গপুর আইআইটি-র ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক শৌভিক চট্টোপাধ্যায়, গৌতম পোদ্দার, তন্ময় ভট্টাচার্য এবং কলকাতা মেট্রোর রোলিং স্টক বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারদের যৌথ উদ্যোগে নতুন প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা কলকাতা মেট্রোয় সম্পন্ন হয়েছে। একটি পুরনো এসি রেকের একটি মোটর কোচে ডিসি টু ডিসি চপার বা পরিবর্তনশীল (ভ্যারিয়েবল) ডিসি কারেন্টে চলতে পারে, এমন মোটর চালিয়ে পরীক্ষা করেছেন আধিকারিকেরা। ওই পরীক্ষা সফল হওয়ায় কর্তৃপক্ষ মেট্রোর রেকে ওই প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্যোগী হচ্ছেন। আইআইটি-র সহায়তায় নিজস্ব উদ্যোগে তৈরি ওই প্রযুক্তি মেট্রোর পুরনো রেকগুলিকে নতুন প্রাণ দেবে বলে দাবি আধিকারিকদের।
এ জন্য বিস্তারিত প্রকল্প তৈরি করে এবং তার খরচ যাচাই করে রেল বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। পুরনো রেকগুলির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় যন্ত্রপাতি বদল করতে যেখানে রেকপিছু ন’কোটি টাকা খরচ হত, সেখানে নতুন ব্যবস্থায় রেকপিছু গড়ে তিন কোটি টাকা খরচ হবে বলে মেট্রোর দাবি। পাশাপাশি, প্রযুক্তি বদলের পরে নতুন রেকগুলিতে রিজেনারেটিভ ব্রেকিং প্রযুক্তি থাকবে। এর ফলে ট্রেন স্টেশনে পৌঁছে ব্রেক কষলে খরচ হওয়া যান্ত্রিক শক্তি থেকে নতুন করে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে। এতে বছরে রেকপিছু অন্তত ৩৫.৬২ লক্ষ টাকা সাশ্রয় হবে। একটি রেক দিনে ছ’টি ট্রিপ করে ধরে নিয়ে এই হিসাব কষা হয়েছে।
এ ছাড়াও প্রযুক্তি বদলালে মেট্রোর পুরনো রেকগুলির দৌড় মসৃণ হবে বলেও কর্তৃপক্ষের দাবি। এখন পুরনো রেকগুলিতে সফরের সময়ে যাত্রীরা ঝাঁকুনি অনুভব করেন বেশি। এ ছাড়াও ভিড়ের সময়ে ওই সব রেকে বাতানুকূল যন্ত্র ঠিক মতো কাজ না করায় যাত্রীদের গরম লাগার অনুভূতি হয়। ভবিষ্যতের রেডিয়ো সঙ্কেত ট্রেন নির্ভর ব্যবস্থা (কমিউনিকেশন বেসড ট্রেন কন্ট্রোল সিস্টেম বা সিবিটিসি) নতুন ব্যবস্থার রেকে ব্যবহার করা যাবে।
মেট্রো রেলের জেনারেল ম্যানেজার শুভ্রাংশু শেখর মিশ্র এই পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য রেল বোর্ডে পাঠিয়েছেন। যা অনুমোদন পেলে দেশে হবে প্রথম, জানাচ্ছেন কলকাতা মেট্রোর শীর্ষ কর্তারা।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে