Auction of land

সৈকতে জমির নিলাম, প্রশ্ন

উপকূল এলাকায় জোয়ারের সময় সমুদ্রের ঢেউ যতদূর যায়, সেখান থেকে অন্তত ৫০০ মিটার এলাকায় (সিআরজ়েড) কোনও নির্মাণ করা যায় না।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৬
Share:

দীঘা স্টেশন। ফাইল চিত্র।

বাণিজ্যিক স্বার্থে এবং হোটেল নির্মাণে দিঘার সৈকতে ‘কোস্টাল রেগুলেশন জ়োনে’ই (সিআরজেড) জমি বিক্রি করা হচ্ছে। সেই কাজের ‘ই-অকশনে’র বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হাউসিং ইনফাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন’ (হিডকো)। এই সরকারি বিজ্ঞপ্তি নিয়ে সরব হয়েছেন পরিবেশবিদরা।

দিঘা সমুদ্র সৈকত থেকে ৩৯০ মিটার দূরে প্রায় ১০ একর জমি প্লটভিত্তিক ‘ই-অকশন’ করবে রাজ্য সরকার। রামনগর-১ ব্লকের পশ্চিম গদাধরপুর মৌজায় ওই সব জমির ‘ই - অকশনে’র দায়িত্বে রয়েছে হিডকো। গত ১০ ফেব্রুয়ারি এই মর্মে দুটি বিজ্ঞপ্তি (মেমো নম্বর- ৬৬,৬৭) জারি করেছে তারা। একটিতে মোট ১২টি দাগে ২.২৯ একর, অন্য বিজ্ঞপ্তিতে ৩৪টি দাগে ৬.৮৮ একর জমি ‘ই-অকশনে’র কথা জানানো হয়। পাশাপাশি, হিডকোর তরফে যে সমস্ত সংস্থা দরপত্র জমা দিচ্ছে, তাদের বলা হয়েছে, জমির মালিকানা পাওয়ার পর সিআরজ়েড কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নিতে হবে। এরপর হোটেল নির্মাণের জন্য অনুমতি দেবে দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ।

নিয়ম বলছে, উপকূল এলাকায় জোয়ারের সময় সমুদ্রের ঢেউ যতদূর যায়, সেখান থেকে অন্তত ৫০০ মিটার এলাকায় (সিআরজ়েড) কোনও নির্মাণ করা যায় না। সিআরজেড বিধি নিয়ে জটিলতার কারণে জেলার আরেক পর্যটন কেন্দ্র মন্দারমণির ১৪৪টি হোটেলের ভাগ্য ঝুলছে হাই কোর্টে। এ পরেও এই সিআরজ়েড এলাকায় কী ভাবে হোটেল এবং বাণিজ্যিক স্বার্থে জমি বিক্রি করছে হিডকো, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

রাজ্য সরকারের জীব বৈচিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত তথা রামনগর-১ ব্লকের শিক্ষক প্রীতিরঞ্জন মাইতি বলেন, ‘‘সমুদ্র থেকে ৩৯০মিটার দূরত্বে কোনও ভাবেই নির্মাণ কাজ করা যায় না। কিন্তু সেখানে নির্মাণের জন্য যদি রাজ্য সরকার উৎসাহ দেয়, তাতে উপকূলের বাস্তুতন্ত্র পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।’’ রাজ্য জুড়ে নানা পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কর্মী সুভাষ দত্ত বলেন, ‘‘উচ্চ জোয়ার সীমারেখা এলাকায় কোনও নির্মাণ করতে গেলে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক থেকে ছাড়পত্র নিতে হয়। তারা সিআরজ়েড বিধি লঘ্ঙন করে কোনও ভাবেই অনুমতি দেবে না। আসলে রাজ্যে বেআইনি কার্যকলাপই যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’

হাজারো সমালোচনা এবং বিতর্ক হলেও হিডকো’র চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলছেন, ‘‘ই-অকশন প্রক্রিয়া এবং তার পরে যা কিছু হচ্ছে বা হবে, সবটাই নিয়ম মেনে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন