খড়্গপুরে কংগ্রেস ও বামেদের উল্লাস। ছবি: কিংশুক আইচ
পশ্চিম মেদিনীপুরে সবুজ ঝড়। তবু একেবার শক্তিহীন হয়ে যায়নি হাত। শান বেড়েছে কাস্তেরও। তবে কি কিছুটা হলেও প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পাচ্ছে বাম, কংগ্রেস? পুরভোটের পুরো ফল বিশ্লেষণের সুযোগ এখনও না হলেও প্রাথমিক ভাবে এই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে রাজনৈতিক দলগুলির অন্দরে। বাম ও কংগ্রেস দুই শিবির থেকেই দাবি করা হচ্ছে, ভোট লুঠ না হলে ফলাফল আরও ভাল হত। তবে শাসকদলের একাংশের বক্তব্য, বাম-কংগ্রেসের এই আপাত ভাল ফল তাদেরই বিক্ষুব্ধদের ‘অবদান’।
মেদিনীপুর পুরসভায় ৩ টি ওয়ার্ড দখল করেছে সিপিএম, ১ টিতে জিতেছে কংগ্রেস। ২১ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের 'হেভিওয়েট' প্রার্থী আশিস চক্রবর্তীকে হারিয়ে দিয়েছেন কংগ্রেসের মহম্মদ সইফুল। সইফুল যুব কংগ্রেসের জেলা সভাপতি। আর আশিস গড়বেতার প্রাক্তন বিধায়ক ও মেদিনীপুরের প্রাক্তন উপ পুরপ্রধান। জেতার পর সইফুল বলেন, ‘‘মানুষ পাশে থেকেছেন বলেই এই কঠিন লড়াইয়ে জিতেছি।’’ করোনা পরিস্থিতিতে পথে নেমে মানুষকে পরিষেবা দিয়েছেন রেড ভলান্টিয়ার্সের সদস্য সৃজিতা দে বক্সী। সেই সৃজিতাকে এবার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী করেছিল সিপিএম। রেড ভলান্টিয়ার্সের এই তরুণী জিতেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল সৃজিতা যে ওয়ার্ডে জিতেছেন সেখানেই রয়েছে সিপিএমের জেলা অফিস। এর আগে এই ওয়ার্ডে বাম সমর্থিত প্রার্থী জিতলেও কখনও দলের প্রতীকে জেতেনি সিপিএম। এবার জেতায় স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত সিপিএম। তাঁকে নিয়ে লাল আবির খেলেছেন দলের কর্মী সমর্থকেরা। সৃজিতা বলছেন, ‘‘মানুষের জন্য কাজ করব। এলাকার সার্বিক উন্নয়নই লক্ষ্য।’’ এ বারও ২৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জিতেছেন সিপিএমের গোপাল ভট্টাচার্য। এ বার নিয়ে ৫ বার জিতলেন তিনি। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে জিতেছেন সিপিএমের তরুণ মুখ প্রশান্ত মান্ডি। মেদিনীপুরে আগের পুরভোটে ৬টি ওয়ার্ডে জিতেছিল কংগ্রেস, ৫ টিতে বামেরা। মাঝে কাঁসাইয়ের জল অনেকটাই গড়িয়েছে। বাম-কংগ্রেসকে সরিয়ে তৃণমূলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছিল বিজেপি। পুরভোটে সেই গেরুয়াকে ঢেকে মেদিনীপুরে প্রাসঙ্গিকতা ফিরিয়ে আনল বামেরা। খড়্গপুরের ফলেও নজর কেড়েছে বামেরা। এখানে ২ টি আসন পেলেও, বাম প্রার্থীরা হারিয়েছেন তৃণমূল ও বিজেপি প্রার্থীদের। ক্ষীরপাইয়ে অনেক ওয়ার্ডে বামেরা দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বলে দাবি করেছেন ঘাটালের সিপিএম নেতা অশোক সাঁতরা। সিপিএমের জেলা সম্পাদক সুশান্ত ঘোষ আশাবাদী এই ফলে। তিনি বলেন, ‘‘ভোটের হার বেড়েছে, আমরা এ নিয়ে আশাবাদী। কিন্তু আমাদের এখন অনেক পথচলা বাকি।’’ ঝাড়গ্রামেও উড়েছে লাল আবির।
খড়্গপুরে বাম-কংগ্রেস আসন সমঝোতা করে লড়েছিল এবার। গতবার ১১ টি ওয়ার্ডে জিতেছিল কংগ্রেস। এ বার আসন কমেছে। 'হাত' জিতেছে ৬ টিতে। বামেদের জেতা ছিল ৬ টি ওয়ার্ড। এবার জিতেছে ২ টিতে। আসন কমলেও এখানে কংগ্রেসের এই ফল আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন দলীয় নেতৃবৃন্দ। ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে রেলশহরে বিজেপির প্রভাব বাড়ছিল ক্রমেই। অন্যদিকে প্রয়াত 'চাচা' জ্ঞান সিংহ সোহনপালের খড়্গপুরে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল কংগ্রেসের। এ বারের পুরভোটের ফল হতাশা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর বলে মনে করছেন রেলশহরের কংগ্রেস কর্মীরা। জেলা কংগ্রেস সভাপতি সমীর রায় মানছেন, ‘‘আসন সংখ্যার নিরিখে কম হলেও, এই ফল ইঙ্গিত দিচ্ছে আমাদের উত্থান হচ্ছে। এই ফল জানান দিচ্ছে ভোট লুঠ আটকে প্রতিরোধ করলে জয় আসবে।’’
(তথ্য সহায়তা: বরুণ দে, দেবমাল্য বাগচী, অভিজিৎ চক্রবর্তী)