খড়্গপুরে রেলকর্মীর মৃত্যু

খুন না আত্মহত্যা, কাটেনি ধোঁয়াশা

খড়্গপুরে রেলকর্মীর দেহ উদ্ধারের পর ১৫ দিন কেটে গিয়েছে। ঘটনায় প্রথমে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করলেও পরে মৃতের পরিবারের চাপে তাতে খুনের ধারা যোগ করে পুলিশ। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ঘটনার প্রকৃত তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন মৃত রেলকর্মী সৌরভ কুমারের বন্ধু ও পরিজনেরা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০১৫ ০১:৪৫
Share:

খড়্গপুরে রেলকর্মীর দেহ উদ্ধারের পর ১৫ দিন কেটে গিয়েছে। ঘটনায় প্রথমে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করলেও পরে মৃতের পরিবারের চাপে তাতে খুনের ধারা যোগ করে পুলিশ। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ঘটনার প্রকৃত তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন মৃত রেলকর্মী সৌরভ কুমারের বন্ধু ও পরিজনেরা। ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মৃতের পরিজনেরা। কার্যত চাপের মুখে পড়ে গত সোমবার খড়্গপুরের গোলবাজার মসজিদ সংলগ্ন সৌরভের কোয়ার্টারে তল্লাশি চালায় পুলিশ। মৃতের মোবাইল নম্বরের কললিস্টও খতিয়ে দেখা হয়। যদিও এখন সৌরভের অপমৃত্যুর ঘটনায় ধোঁয়াশা কাটেনি।

Advertisement

বুধবার ফোনে মৃতের দাদা বিপিন কুমারের অভিযোগ করেন, ‘‘ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর খড়্গপুরে যাই। সৌরভের খড়্গপুরের কোয়ার্টারের ঘরে কেবল নেটওয়ার্কের একটা কার্ড পেয়েছি। সেই কার্ডে রক্তের ছিঁটে রয়েছে। ভাইকে খুন না করা হলে ওই রক্ত এল কী ভাবে?’’ যদিও সৌরভের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনও ধন্দে পুলিশ।

গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে ওই রেল কোয়ার্টার থেকেই উদ্ধার হয় সৌরভের পচাগলা দেহ। বিহারের হাজিপুরের আখিলাবাদের বাসিন্দা সৌরভ গত দেড় বছর খড়্গপুর রেল ওয়ার্কশপের চিফ ডিপো মেটেরিয়াল সুপারিন্টেনডেন্ট পদে ছিলেন। গোড়ায় পুলিশের দাবি ছিল, মৃত্যু হয়েছে বিষক্রিয়ায়। সেই মতো প্রথমে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা শুরু হলেও গত শুক্রবার সৌরভের পরিবারের দাবি মেনে তাতে খুনের ধারা যোগ করে পুলিশ। তবে, পুলিশি তদন্তে আর ভরসা রাখতে পারছেন না মৃতের দাদা বিপিন কুমার। তাঁর কথায়, ‘‘ঘটনার সিবিআই তদন্তের জন্য স্থানীয় সাংসদ রামবিলাস পাসোয়ানের কাছে আবেদন জানিয়েছি।”

Advertisement

মৃতের পরিজনদের অভিযোগ, ঠিকাদার সংক্রান্ত গোলমালের জেরে মানসিক চাপে ছিলেন সৌরভ। সম্ভবত তার জেরেই এই খুন। তবে খড়্গপুর পুলিশ এখনও পর্যন্ত তদন্তে এই মর্মে কোনও সূত্র পায়নি বলেই দাবি করেছে। মঙ্গলবার খড়্গপুরের সৌরভের অফিসে গিয়ে তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। যদিও এ বিষয়ে কোনও সূত্র মেলেনি বলে তদন্তকারীদের দাবি। তবে সহকর্মীদের অধিকাংশেরই দাবি, মৃত্যুর কয়েকদিন আগেও সৌরভের মধ্যে কোনও অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রথম ইঞ্জিনিয়ারের মধুগোল্লা বিশ্বসরিয়ার জন্মদিবস পালনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল রেল ইঞ্জিনিয়ার ফোরাম। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৌরভ। ফোরামের দক্ষিণ-পূর্ব রেলের সাংগঠনিক সম্পাদক অশোককুমার পড়িয়া বলেন, “ওই অনুষ্ঠানে আমি সৌরভকে দেখেছিলাম। তবে ওকে মনমরা লাগেনি। আমরাও চাই, সৌরভের মৃত্যু রহস্যের উদ্ঘাটন হোক।”

খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্ত বলেন, “তদন্তে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। মৃতের পরিবারের লোকেদেরও ডাকা হয়েছে। ওঁরা এখনও আসেননি। তদন্ত সমাপ্ত হলেই সৌরভের মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে বলা যাবে।”

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement