অমিত শাহ আসার প্রস্তুতি। মঙ্গল বার মায়াপুর ইসকন মন্দিরে। ছবি: সুদীপ ভট্টাচার্য।
মায়াপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বুধবার সাধুসন্তদের একটি বৈঠক হবে, এমনটাই শোনা গিয়েছিল। কিন্তু প্রস্তাবিত সেই বৈঠক আদৌ হবে কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। কেননা শাহের এ দিনের সফরসূচি নিয়ে নানা পরস্পরবিরোধী কথা শোনা যাচ্ছে।
বিজেপির নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা সভানেত্রী অপর্ণা নন্দীর বক্তব্য, “১৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মায়াপুর সফর বিষয়ে দিল্লির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে যে ইমেল পাঠানো হয়েছে তাতে বলা হয়েছে ইস্কনের হেলিপ্যাডে তাঁর হেলিকপ্টার দুপুর ২.২০ মিনিটে নামবে। সেখান থেকে সরাসরি ২.২৫ মিনিটে তিনি পৌঁছবেন সভা মঞ্চে। বিকাল ৪.২৫ মিনিট পর্যন্ত ওই অনুষ্ঠানে থেকে সাড়ে ৪টে নাগাদ তিনি কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেবেন। এর বাইরে আর কিছু উল্লেখ নেই।”
ইস্কনের জনসংযোগ আধিকারিক রসিক গৌরাঙ্গ দাস আবার জানাচ্ছেন অন্য কথা। মঙ্গলবার তিনি বলেন, “আমরা জানি, দুপুর আড়াইটে নাগাদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মায়াপুরে নামবেন। হেলিপ্যাড থেকে গাড়িতে সোজা আসবেন শঙ্খ ভবনে। সেখান স্বল্পক্ষণ থেকে যাবেন মন্দির দর্শনে। সম্ভবত শঙ্খ ভবনে কয়েক জনের সঙ্গে তিনি কথাও বলবেন। মন্দির দর্শন সেরে তিনি যাবেন অনুষ্ঠান মঞ্চে। সেখানে মিনিট ৪৫ থেকে ফিরে যাবেন।”
যাদের আমন্ত্রণে এ দিন মায়াপুরে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্টমন্ত্রী, সেই শ্রীসারস্বত গৌড়ীয় বৈষ্ণব সঙ্ঘের তরফেও প্রথমে জানানো হয়েছিল যে মায়াপুরে ইস্কন মন্দির দর্শনের পর নির্বাচিত কয়েক জন সাধুসন্তের সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলবেন শাহ। তাঁদের সঙ্গে প্রসাদ গ্রহণ করে মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই বৈষ্ণব সঙ্ঘের সভাপতি ভক্তিসাধন তৎপর মহারাজ বলেন, “আমরা প্রথমে জেনেছিলাম যে অমিত শাহ ১০টা নাগাদ মায়াপুরে আসবেন। শ্রীভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুরের ১৫২তম আবির্ভাব তিথি উদ্যাপন অনুষ্ঠানের আগে সাধুদের সঙ্গে কথা বলবেন, প্রসাদ গ্রহণ করবেন। কিন্তু এখন শুনছি, উনি আসছেন দুপুর আড়াইটে নাগাদ। সাধুদের সঙ্গে যা কথা তা অনুষ্ঠান স্থলেই হবে। তাঁর অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে পৃথক বৈঠক সম্ভবত হচ্ছে না।”
বৈঠক না হওয়ার খবর ইতিমধ্যে সাধুদের একাংশের কাছেও পৌঁছেছে। আয়োজকদের একাংশের দাবি, শাহের সঙ্গে বৈঠকে সাধু-সন্ন্যাসী মিলিয়ে মোট ২৫ জনের থাকার কথা ছিল। তার জন্য নবদ্বীপের বিভিন্ন মঠের ১২ জন এবং মায়াপুরের ১৩ জন সাধুর কাছে আমন্ত্রণ গিয়েছে। তার মধ্যে ছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মধ্য বঙ্গ মণ্ডলের সভাপতি তথা নবদ্বীপ সুদর্শন মন্দিরের অন্যতম সেবায়েত শ্রুতিশেখর গোস্বামী। তিনি বলেন, “বৈষ্ণব সমাজের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে কিছু প্রস্তাব দেওয়ার ছিল। চৈতন্যদেবের স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলি সংরক্ষণের দাবি জানাতাম আমরা। আমঘাটা বা হরিহর ক্ষেত্রের মতো চৈতন্য লীলাভূমিগুলি জবরদখল হয়ে যাচ্ছে। সেই বিষয়ে হস্তক্ষেপের অনুরোধ করতাম। কিন্তু মন্ত্রীর ব্যস্ততা থাকায় কথা বলার সময় মিলবে না বলেই জানতে পারছি।” তবে শাহ কী বলেন শোনার জন্য সাধুরা থাকছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে