BLO Beaten in Nadia

বাবার চেয়ে মেয়ে ৫ বছরের বড়, তথ্যগত অসঙ্গতি ধরাতে গিয়ে ভোটারের হাতে রক্তাক্ত বিএলও!

লাঠির আঘাতে বিএলও-র মাথা ফেটেছে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে শক্তিনগর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে যন্ত্রণাকাতর ব্যক্তি বলেন, ‘‘আমি শুধু নিয়ম মেনে তথ্যের ভুলটা ধরিয়ে দিয়েছিলাম।’’

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:০৬
Share:

হাসপাতালে আক্রান্ত বিএলও। —নিজস্ব ছবি।

নথির হিসাব বলছে বাবার চেয়ে মেয়ের বয়সের ব্যবধান পাঁচ বছর বেশি। ওই তথ্যগত অসঙ্গতির জন্য সংশ্লিষ্ট ভোটারকে শুনানিতে যেতে হবে বলে জানানোয় মার খেলেন বিএলও! চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার কালীগঞ্জে।

Advertisement

কালীগঞ্জ ব্লকের আশাচিয়া গ্রামের ৮০/২২৫ নম্বর বুথের বিএলও আলি সাহেব। তাঁকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতি এবং আরও কয়েক জনের বিরুদ্ধে। আক্রান্ত বুথ স্তরের আধিকারিকের মাথা ফেটেছে। সাতটি সেলাই করেছেন চিকিৎসক।

অশান্তির সূত্রপাত এসআইআরের কাজের সময়। বিএলও জানান, আশাচিয়া গ্রামের বাসিন্দা আলিফা বিবির বয়স তাঁর বাবার চেয়ে পাঁচ বছর বেশি দেখানো হয়েছে নথিতে। ওই ভুল সংশোধনের জন্য আলিফা এবং তাঁর স্বামী আয়াতুল্লাহ শেখের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তিনি। তার পরেই এই পরিণতি।

Advertisement

আক্রান্ত বিএলও-র দাবি, লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি বা তথ্যগত অসঙ্গতি কী, সে সব বুঝতে চাননি ওই দম্পতি। শুনানিতে যেতে হবে শুনেই তাঁকে দোষারোপ করে মারধর শুরু করেন। লাঠির আঘাতে বিএলও-র মাথা ফেটেছে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে কালীগঞ্জ ব্লক হাসপাতালে এবং পরে শক্তিনগর সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করানো হয়। রবিবার হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে যন্ত্রণাকাতর আলি বলেন, ‘‘আমি শুধু নিয়ম মেনে তথ্যের ভুলটা ধরিয়ে দিয়েছিলাম। বাবার চেয়ে মেয়ের বয়স বেশি হতে পারে না, এই সহজ কথাটা বলতেই আয়াতুল্লাহ শেখ ও তাঁর লোকজন আমাকে মারতে শুরু করেন। মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে। সাতটা সেলাই পড়েছে আমার মাথায়।’’

যদিও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা বিএলও-র বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন আয়াতুল্লাহ। তাঁর দাবি, ‘‘বিএলও সাহেব ইচ্ছাকৃত ভাবে আমাদের হয়রানি করার জন্য ওই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। নথিতে ভুল থাকলে সেটা সংশোধনের বদলে উনি আমাদের ছোট করছিলেন।’’

অন্য দিকে, ওই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা এবং এসআইআরের কাজ করার সময় সরকারি কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement