Murshidabad

দূরে থাকুন, তবে ব্রাত্য নন ওঁরা 

লকডাউনের প্রথম পর্বে তো বটেই, তার পরেও কখনও দিল্লি কখনও বা কেরল কিংবা ওড়িশা থেকে বহু পরিযায়ী শ্রমিক গ্রামে ফিরেছেন।

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৪ মে ২০২০ ০৪:২৬
Share:

প্রতীকী ছবি

সরাসরি গোষ্ঠী-সংক্রমণের আশঙ্কা না থাকলেও, জেলায় তিন করোনা-আক্রান্তের দিল্লি যোগের হদিস মেলায় স্বাস্থ্য দফতরের পাশাপাশি সাধারণের মধ্যেও অস্বস্তি শুরু হয়েছে।

Advertisement

লকডাউনের প্রথম পর্বে তো বটেই, তার পরেও কখনও দিল্লি কখনও বা কেরল কিংবা ওড়িশা থেকে বহু পরিযায়ী শ্রমিক গ্রামে ফিরেছেন। তবে উপসর্গহীন সেই সব শ্রমিকদের হোম কোয়রান্টিনে রেখেই পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু লকডাউনের পর্ব ক্রমশ বাড়তে তাকায় এবং তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে করোনার দাপট ছড়িয়ে পড়তে শুরু করায় কপালে ভাঁজ পড়েছিল স্বাস্থ্য দফতরের। সেই দুশ্চিন্তায় দোসর হয়েছে দিল্লি ফেরত তিন বিড়ি ব্যবসায়ীর দিল্লি-যোগ। জঙ্গিপুর হাসপাতালের এক নার্সিং কর্মীর সংক্রমণে সেই তালিকায় নয়া সংযোজন। প্রশ্ন উঠেছে তা হলে কি গোষ্ঠী-সংক্রমণের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে মুর্শিদাবাদের কিছু এলাকা!

মুর্শিদাবাদের মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক প্রশান্ত বিশ্বাস অবশ্য বলছেন, ‘‘সুতির করোনা আক্রান্ত তিন জনের সংস্পর্শে প্রায় ২৫জন এসেছিলেন। তাঁদের ১৫ মের মধ্যে লালারস নিয়ে পরীক্ষা করা হবে। তবে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালের ওই করোনা আক্রান্ত স্বাস্থ্য কর্মীর সংস্পর্শে আসা ১৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছিল। ১৪জনের রিপোর্ট পেয়েছি। প্রত্যেকের নেগেটিভ এসেছে। ফলে এখনই তেমন দুশ্চিন্তার কিছু নেই।’’

Advertisement

কিন্তু দিল্লি থেকে ওই তিন বিড়ি ব্যবসায়ী করোনা সংক্রমণ নিয়ে ফেরার পরে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে স্থানীয় গ্রামবাসীরা। তাঁদের নিয়ে প্রশ্ন ওঠার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ঘরে ফেরার পরে নিয়ম মেনে নিভৃতবাস করা তো দূরের কতা তাঁদের অনেকেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে বেরিয়ে পড়েছিলেন এলাকায়। ফলে তাঁদের নিয়ে এলাকায় শঙ্কা ছড়াচ্ছে বলে প্রশাসনের কর্তারা মনে করছেন। আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য দিবারাত্র প্রচার সত্ত্বেও এখন পরিযায়ী এবং গ্রামের মানুষের মধ্যে চাপা একটা অস্বস্তি যে দেখা দিয়েছে তা জেলা পুলিশের কর্তারাই আকারে প্রকারে স্বীকার করছেন। তবে, মুর্শিদাবাদের পু্লিশ সুপার কে শবরী রাজকুমার আশ্বস্থ করছেন, ‘‘হোম কোয়রান্টিনে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়িতে স্বাস্থ্য দফতর নোটিশ লাগিয়ে দিচ্ছে। সেই সব বাড়ির উপরে নজরদারি রাখছেন সিভিক ভলিন্টিয়ারেরা। থানার পুলিশও টহল দিচ্ছে। ভয়ের কিছু নেই। তবে পরিযায়ীদের ব্রাত্য করবেন না।’’

প্রশাসনের এক কর্তা বলছেন, ‘‘সাধারণের মনে প্রশ্ন একটা থেকেই যাচ্ছে এবং তাঁদের ভরসা জোগানোই এখন প্রথম কাজ।’’

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement