Kalyani JNM Row

হাসপাতালে ‘বহিরাগতের তাণ্ডব’! রণক্ষেত্র কল্যাণী জেএনএম, কর্মবিরতির ডাক দিলেন জুনিয়র ডাক্তারেরা

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে জড়ো হন বিপুল সংখ্যক জুনিয়র ডাক্তার থেকে ডাক্তারি পড়ুয়ারা। উত্তেজনার পারদ চড়লে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। সংঘর্ষে দুই জুনিয়র চিকিৎসক এবং রোগীর পরিবারের তিন সদস্য আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬ ১৪:১৯
Share:

হাসপাতালে হাতাহাতি! —নিজস্ব ছবি।

দুর্ঘটনায় জখম রোগীর চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল নদিয়ার কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল (জেএনএম) হাসপাতাল। জুনিয়র ডাক্তার এবং রোগীর পরিজনদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে দু’পক্ষেরই বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন বলে খবর। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতির ডাক দিলেন ওই হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তারেরা।

Advertisement

হাসপাতাল সূত্রে খবর, সোমবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ পথ দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর চোট পাওয়া এক ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। রোগীর পরিবারের অভিযোগ, সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় দীর্ঘ ক্ষণ ফেলে রাখা হয়েছিল রোগীকে। রক্তক্ষরণ হচ্ছিল রোগীর। সময়মতো চিকিৎসা শুরু না-হওয়ায় রোগীর অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে বলে তাঁদের দাবি। এ নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে বচসায় জড়ান পরিজনেরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, জুনিয়র ডাক্তারদের উপর চড়াও হন রোগীর আত্মীয়েরা। পাল্টা অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও। রোগীর স্ত্রী ও মহিলা আত্মীয়দের বেধড়ক মারধর এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে সরব হয় পরিবার।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে জড়ো হন বিপুল সংখ্যক জুনিয়র ডাক্তার থেকে ডাক্তারি পড়ুয়ারা। উত্তেজনার পারদ চড়লে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় বলে অভিযোগ। সংঘর্ষে দুই জুনিয়র চিকিৎসক এবং রোগীর পরিবারের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কল্যাণী থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। বর্তমানে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা থাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

Advertisement

জুনিয়র ডাক্তারদের পক্ষ থেকে চিকিৎসক ময়ূখ বিশ্বাস বলেন, ‘‘নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে রোগীর চিকিৎসা শুরু হয়েছিল। রক্তক্ষরণ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ একদল বহিরাগত এবং রোগীর আত্মীয়েরা ডাক্তারদের উপর হামলা চালান। হাসপাতালে পর্যাপ্ত সিসিটিভি বা নিরাপত্তা নেই। আমাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কাজে যোগ দেব না।’’ ইতিমধ্যে হাসপাতালের অধ্যক্ষকে চিঠি দিয়ে কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দিয়েছে জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠন।

অন্য দিকে, রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে জুনিয়র ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। হাসপাতালের সুপার অতনু বিশ্বাস বলেন, ‘‘উভয় পক্ষের থেকেই অভিযোগ পেয়েছি। ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement