ভুয়ো সিমকার্ড বিক্রি, রঘুনাথগঞ্জে ধৃত তিন

নাম ভাঁড়িয়ে অন্যের ছবি ও ভোটার কার্ড ব্যবহার করে সিমকার্ড তুলে নেওয়ার অভিযোগে তিন জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার শতাধিক সিমকার্ড।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০১৬ ২৩:৫৯
Share:

আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ধৃতদের। —নিজস্ব চিত্র

নাম ভাঁড়িয়ে অন্যের ছবি ও ভোটার কার্ড ব্যবহার করে সিমকার্ড তুলে নেওয়ার অভিযোগে তিন জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার শতাধিক সিমকার্ড। ধৃতেরা হল রাজা শেখ, মধুসূদন রাউৎ ও মনোজ সরকার। রঘুনাথগঞ্জ শহর লাগোয়া বিভিন্ন এলাকায় তাদের বাড়ি। বিভিন্ন বেসরকারি টেলিকম সংস্থার সিমকার্ড বিক্রি করে তারা।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা সিমকার্ডগুলি প্রত্যেকটিই ‘অ্যাক্টিভেট’ অর্থাৎ চালু সিমকার্ড। কিন্তু সিমকার্ডগুলি যাঁদের নামে তোলা হয়েছে তাঁরা কেউই জানেন না তাঁদের পরিচয়পত্র ও ছবি ব্যবহার করে ওই সিমকার্ডগুলি তোলা হয়েছে। এমনও অনেকের ছবিও পরিচয়পত্র ব্যবহার করা হয়েছে যাদের বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার বাইরে। তারা কী ভাবে পরিচয়পত্র ও ছবি পেল তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

দিন কয়েক আগে গোপনে খবর পেয়ে রঘুনাথগঞ্জের এক মুদি দোকান প্রচুর পরিমাণে বারুদ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই ঘটনায় দোকানের মালিক-সহ চার জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে ভুয়ো সিমকার্ডের হদিশ পায় পুলিশ। পুলিশের দাবি, ধৃতদের একজন পসরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে যে সিমকার্ডটি ব্যবহার করত সেটি অন্যের নাম ভাঁড়িয়ে কেনা। তখনই ধৃতদের জেরা করে ছবি, পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে সিমকার্ড তুলে নেওয়ার চক্রটির হদিশ পায় পুলিশ। প্রথমে যে দোকানটি থেকে সিমকার্ড কেনা হয় সেই দোকানে হানা দেয়। ওই দোকানের মালিককে জেরা করে বাকিদের সন্ধান মেলে। তিনটি দোকান থেকেই এই ধরনের সিমকার্ড মেলে।

Advertisement

রঘুনাথগঞ্জ থানার আইসি সৈকত রায় জানান, ধৃতদের বিরুদ্ধে ৪১৭, ৪১৮, ৪২০ ও ১২০ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃতদের শনিবার জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। পুলিশ তাদেরকে সাত দিনের জন্য নিজেরদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন করে। বিচারক তা নামঞ্জুর করে ধৃতদের চোদ্দো দিনের জেলা হাজতের নির্দেশ দেন।

আইসি জানান, এই সব সিমকার্ড দুষ্কৃতীদের হাতে গেলে সমূহ বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। তাই জঙ্গিপুরে সিমকার্ড চক্রকে ধরতে ব্যাপক তল্লাশি শুরু হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement