বিধি শিকেয় বাসে। নিজস্ব চিত্র
বাস ধরার জন্য লালবাগ বাসস্ট্যান্ড অপেক্ষা করছিলেন গুধিয়ার একটি শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের সহায়িকা সুচন্দ্রা বিশ্বাস। ঘণ্টাখানেক অপেক্ষার পরে বাস না মেলায় শেষ পর্যন্ত ছেলের মোটরবাইকে করে গন্তব্যে পৌঁছন সুচন্দ্রা। তাঁর দাবি, ‘‘চাল আলু বিলি করার জন্য বেরিয়েছি। বাস চলাচল করছে শুনে বাসস্ট্যান্ড এসে দেখি বাসের দেখা নেই। তাই শেষ পর্যন্ত ছেলের মোটরবাইকে শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে এসেছি।’’
হরিহরপাড়া বিডিও অফিসের কর্মী শ্যামসুন্দর মণ্ডল সময় মতো বাস না পেয়ে মঙ্গলবারও বহরমপুর থেকে ট্রেকারে করে অফিস পৌঁছন। তাঁর দাবি, ‘‘রাস্তায় বাস কম চলছে। বাসের আশায় থাকলে অফিসে সময় মতো পৌঁছতে পারবো না। তাই ট্রেকার আসতে হয়েছে।’’
সোমবার থেকে সরকারি বেসরকারি অফিস কাছারি খুলেছে। এ ছাড়া লোকজনও নানা কাজে বেরিয়েছেন। সপ্তাহ খানেক আগে জেলায় বেসরকারি বাস পরিষেবা চালু হলেও এখনও একশো শতাংশ বাস রাস্তায় নামেনি। ফলে মঙ্গলবারও দুর্ভোগ পোহালেন মুর্শিদাবাদের যাত্রীরা। আগের থেকে বাস চলাচলের সংখ্যা বাড়লেও পর্যাপ্ত বাস রাস্তায় নেই। যার জেরে জেলা জুড়ে বাসিন্দাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
এ দিনও অনেক বাসযাত্রীকে মাস্ক ছাড়া বাসে উঠতে দেখা গিয়েছে। আবার মাস্ক ছাড়াই ওমরপুরগামী বাসের স্টিয়ারিং হাতে দেখা গিয়েছে চালক চন্দন রায়কে। মাস্ক পরেননি কেন এমন প্রশ্ন করতেই উত্তর আসে, ‘‘আমাদের সবারই সব সময় মাস্ক পরা উচিত। কিন্তু গরমের জন্য মাস্ক খুলে রেখেছি।’’ ওমরপুরের ওয়াহিদ আলি ওই বাসেই বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁরও মুখে মাস্ক ছিল না। তাঁর যুক্তি ‘‘গরমে অস্বস্তি লাগছে তাই মাস্ক খুললাম এখনই।’’
মুর্শিদাবাদ জেলা বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামলকুমার সাহার দাবি, ‘‘এদিন সোমবারের থেকে কিছু বাস বেশি চলেছে। সোমবার যেখানে জেলায় ৭০ শতাংশ বাস নেমেছিল। মঙ্গলবার সেখানে ৮০ শতাংশ বাস নেমেছে। তবে যাত্রী কম থাকায় আমাদের সমস্যা হচ্ছে।’’ অন্যদিকে কান্দি বাস সিন্ডিকেটের সহকারি সভাপতি ফুলু মিঁয়া বলেন, ‘‘আমাদের মহকুমায় একশো শতাংশ বাস নেমেছে। কিন্তু যাত্রী কম। তাই কলকাতায় যখন বাসের অভাবে যাত্রীরা কষ্ট পাচ্ছেন তখন তার উল্টো চিত্র আমাদের মহকুমায়। যাত্রী অভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’’ তাঁর দাবি, ‘‘এক সপ্তাহ দেখব। লোক না বাড়লে বাস চালানো বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না।’’ তবে এনবিএসটিসি জেলায় বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত বাস চালিয়েছে।