ফুটবলের জাদু। রানাঘাটে।
তাঁর প্রতিবন্ধকতার অন্ত নেই। কিন্তু মনের জোর আর কঠোর অনুশীলনের কাছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে হার মানে, তা দেখিয়েছেন তিনি। জন্ম থেকে তিনি মূক ও বধির। স্কুলের চৌকাঠে কখনও পা দিতে পারেননি। কিন্তু ছোট থেকেই ফুটবলের নেশায় তিনি বুঁদ হয়ে থেকেছেন। বুধবার তিনি দেখালেন ফুটবল নিয়ে কেরামতি। তার কায়দাকানুন দেখলেন মাঠে হাজির হাজার হাজার দর্শক। কখনও ফুটবলটা পিঠে, কখনও বা পিঠে আবার কখনও বা ঘাড়ে, মাঝেমধ্যে ডান-বাম পা দিয়ে একনাগাড়ে নাচিয়ে গেলেন ফুটবল। টানা এক ঘণ্টা ধরে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ফুটবল নিয়ে তিনি কেরামতি দেখালেন। তিনি, অমিত বিশ্বাস। সাকিন নদিয়ার নবদ্বীপ থানার মাজদিয়া-বেলডাঙা এলাকায়। বুধবার নদিয়ার রানাঘাটের নাসরা উচ্চবিদ্যালয় ময়দানে আয়োজন করা হয়েছিল জেলা আন্তঃপ্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশুশিক্ষা কেন্দ্র এবং মাদ্রাসা কেন্দ্র সমূহের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এখানেই খেলা শুরুর আগে মাঠ প্রদক্ষিণের সময় তিনি ফুটবল নিয়ে বছর একুশের অমিত তাঁর কেরামতি দেখান।
ছোট থেকেই অভাবের সংসার অমিত বিশ্বাসের। অমিতবাবুর বাড়িতে বাবা-মা ছাড়া রয়েছে তাঁর দুই বোন। বাবা অজিত বিশ্বাস ও মা সুলতা বিশ্বাস তাঁত বুনে কোনওরকমে সংসার চালান। আর মাঝেমধ্যে ফুটবলের কায়দা দেখিয়ে জোটে সামান্য দক্ষিণা। তিনি বলেন, ‘‘একটা কোনও স্থায়ী কাজ পেলে ভাল হত।’’ এ দিন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করতে এসেছিলেন জেলাশাসক বিজয় ভারতী। তিনি বলেন, ‘‘সুযোগ পেলে অমিত বিশ্বাসের মত ছেলেরা সব প্রতিবন্ধকতা জয় করে সৃজনশীল অনেক কিছুই করতে পারেন। ওঁদের কথা ভেবে কিছু সদর্থক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হবে।’’