শিলিগুড়িতে প্যারা মেডিক্যাল এবং নার্সিং প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ফের গ্রেফতারি। ফের বিক্ষোভ পড়ুয়াদের। —নিজস্ব ছবি।
প্যারা মেডিক্যালের নামে শিলিগুড়ি জুড়ে চলছে প্রতারণাচক্র। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা প্যারা মেডিক্যাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় কোন বৈধ কাগজপত্রই নেই। শত শত পড়ুয়ার সঙ্গে প্রতারণা এবং কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গ্রেফতার বেশ কয়েক জন।
সপ্তাহখানেক আগে শিলিগুড়ির শালবাড়িতে বেসরকারি প্যারা মেডিক্যাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠে। ভুয়ো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করে বিক্ষোভে নামেন পাহাড়, সমতল এবং সিকিমের পড়ুয়ারা। ওই ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করেছে প্রধাননগর থানার পুলিশ।
ওই ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে, একটি নয়, এমন বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান চলছে উত্তরবঙ্গে (বিশেষত শিলিগুড়িতে) যাদের কাছে ইন্ডিয়ান নার্সিং কাউন্সিলের অনুমোদনই নেই। প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্স এবং সিকিমের প্রচুর ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করেন। এখন জানা যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে দেওয়া শংসাপত্রও ভুয়ো।
পুলিশের একটি সূত্রে খবর, শিলিগুড়ির মিলন মোড় এলাকায় আস্থা প্যারা মেডিক্যাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট নামে একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছেও ইন্ডিয়ান নার্সিং কাউন্সিলের অনুমোদন নেই। এদের শংসাপত্র থেকে রেজিস্ট্রেশন নম্বর, সবই ভুয়ো। ওই তথ্য সামনে আসার পরে পড়ুয়ারা প্রধাননগর থানায় যানয় দ্বারস্থ হন। তার ভিত্তিতে সাত জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সরকারি আইনজীবী সুশান্ত নিয়োগী জানান, ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঠিক রেজিস্ট্রেশন নেই। এদের মধ্যে কেউ পুলশি হেফাজতে আবার কেউ জেল হেফাজতে রয়েছে। তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে। সূত্রের খবর, প্রতিটি পডুয়ার কাছ থেকে প্যারা মেডিক্যাল বা নার্সিং ট্রেনিংয়ের নাম করে লক্ষাধিক টাকা নেওয়া হত। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান কয়েক কোটি টাকার প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছিল।