Coronavirus

প্রসূতিকে নিয়ে উদ্বেগ

ওই প্রসূতির সংস্পর্শে আসায় নার্স, দুই জন টেকনিশিয়ান, স্বাস্থ্যকর্মী মিলিয়ে ১৫ জনকে কোয়রান্টিনে পাঠানো হয়েছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২০ ০৮:৩৩
Share:

প্রতীকী ছবি।

শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে এক প্রসূতির করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর সন্তান প্রসব হলেও সদ্যোজাত মারা গিয়েছে। তারপরেই প্রসূতির সংক্রমণের রিপোর্ট মেলে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে তাঁকে রাখা হয়েছিল। সোমবার রাতে সংক্রমণের খবর মেলার পরও ওই ওয়ার্ডে মঙ্গলবার বেলা ১০টা পর্যন্ত তাঁকে ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ। পরে কাওয়াখালির কোভিড হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওই প্রসূতি ভর্তি হওয়ার পর থেকে এ দিন পর্যন্ত প্রসূতি বিভাগ, সিসিইউতে সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই তাঁকে রাখা হয়েছিল। এই কারণেই সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়েছে।

Advertisement

তাঁর সদ্যোজাতকে সিক নিউবর্ন কেয়ার ইউনিট (এএনসিইউ)-এ নেওয়া হয়। তাতেও উদ্বিগ্ন অনেকে। ওই প্রসূতির সংস্পর্শে আসায় নার্স, দুই জন টেকনিশিয়ান, স্বাস্থ্যকর্মী মিলিয়ে ১৫ জনকে কোয়রান্টিনে পাঠানো হয়েছে। হোমকোয়রান্টিনে পাঠানো হয়েছে দুই চিকিৎসককে। ওই সিসিইউ বন্ধ করে নার্সিংহোমের অনেক রোগীকে মেডিক্যালে রেফার করা হয়েছে।

হাসপাতালের সুপার অমিতাভ মণ্ডল গোটা পরিস্থিতি মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকে বিষয়টি জানিয়েছেন। কেন ওই প্রসূতিকে আলাদা রাখা হয়নি সেই প্রশ্ন উঠেছে। জেলা হাসপাতালে সেই পরিকাঠামো কতটা রয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রলয় আচার্য বলেন, ‘‘নিয়ম মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চিন্তার কোনও ব্যাপার নেই।’’

Advertisement

হাসপাতাল সুপার জানান, প্রসূতি ১১ জুন যখন ভর্তি হন তখন কোনও উপসর্গ ছিল না। সন্তানপ্রসবে সমস্যার জন্য ১২ জুন লেবার ওয়ার্ডে অস্ত্রোপচার করা হয়। সদ্যোজাতের শারীরিক সমস্যা থাকায় তাকে এসএনসিইউ’তে ভর্তি করা হয়। তবে বাঁচানো যায়নি। প্রসূতির শ্বাসকষ্ট হলে তাঁকে সিসিইউ’তে রাখা হয় অন্য রোগীদের সঙ্গেই। এরপর ১৩ জুন লালারস পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সোমবার রাত ৯টা নাগাদ রিপোর্ট মেলে পজিটিভ। হাসপাতাল সুপার বলেন, ‘‘যারা সংস্পর্শে এসেছিলেন তাঁদের কাউন্সেলিং করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম মেনে তাদের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সন্দেহভাজনদের রাখতে সিসিইউ’তে ২টি আলাদা শয্যা রাখা হয়েছে। প্রসূতি বিভাগেও সন্দেহভাজনদের জন্য দুটি শয্যা রয়েছে। প্রসবের পরেও সন্দেহভাজন প্রসূতিকে রাখতে আলাদা পাঁচটি শয্যা রয়েছে। তার পরেও কেন তাঁকে আলাদা শয্যায় রাখা হয়নি? সুপার জানান, উপসর্গ না-থাকায় আলাদা রাখা হয়নি। সিসিইউ’তে যে শয্যায় প্রসূতি ছিলেন তার লাগোয়া শয্যায় রোগী ছিল না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার ভোরে সিসিইউ’তে ৫৮ বছরের এক ব্যক্তি মারা যান। তাঁর বাড়ি ইস্কনমন্দির রোডে। তাঁর করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। এ দিনই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের অধ্যক্ষের দফতরের দুই কর্মীর করোনা সংক্রমণ মিলেছে। এ ছাড়া ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের এক মহিলার শরীরে সংক্রমণের রিপোর্ট আসে এ দিন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement