প্রতীকী ছবি।
উত্তর দিনাজপুরের পড়শি বিহারের পূর্ণিয়ায় এক ব্যাক্তির লালারসে মিলল করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব। এত নিকটবর্তী এলাকার বাসিন্দা করোনায় পজ়িটিভ হতেই ঘুম উড়েছে উত্তর দিনাজপুরের ডালখোলাবাসীর, চিন্তায় প্রশাসনও। প্রশাসন জানায়, পূর্ণিয়া ডালখোলা শহরের সীমান্ত এলাকা। প্রতিদিন পূর্ণিয়া এবং ডালখোলার বাসিন্দাদের মধ্যে যাতায়াত চলতেই থাকে। সবার একই প্রশ্ন, এই জেলাতেও সংক্রামণ ঘটবে না তো!
বিহারের পূর্ণিয়ার এক ব্যাক্তির লালারসের নমুনায় করোনা-পজ়িটিভ মেলায় তাঁকে সোমবার সেখানকার হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে পূর্ণিয়া জেলা প্রশাসন। এই খবর চাউর হতেই ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছেন পূর্ণিয়া লাগোয়া উত্তর দিনাজপুরের সীমান্ত গ্রামগুলি। উদ্বেগে জেলা পুলিশ প্রশাসন কড়া সতর্কতা নিয়েছে। বাংলা-বিহার সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে ওই ব্যাক্তির করোনা-আক্রান্ত শোনার পরেই বিহারের ওই গ্রাম থেকে আসার চোরাপথগুলিতে বেড়া দিয়েছেন স্থানীয় মানুষ। সমস্ত জেনে তৎপর হয়েছে দু’টি এলাকার পুলিশও। বিহার সীমানায় একাধিক চেকপোস্ট তৈরি হয়েছে বলে খবর।
পূর্ণিয়া জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, আক্রান্ত ওই ব্যক্তির বাড়ি পূর্ণিয়ার গোলাপবাগ এলাকায়। পেশায় ফল ব্যবসায়ী। তাঁর নিজস্ব একটি আড়ত রয়েছে। তিন দিন আগে দিল্লি একটি লরিতে চেপে ফল নিয়ে বাড়িতে ফেরেন। করোনা উপসর্গ দেখা দেওয়া লালারস নমুনা সংগ্রহ করা হলে রিপোর্ট পজ়িটিভ হয়। এরপর পরিবারের লোকজনদের কোয়রান্টিনে পাঠানো হয়। এলাকাটি সিল করে দেওয়া হয়েছে।
উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উত্তর দিনাজপুর জেলা এখনও গ্রিন জ়োন। জেলায় এখনও করোনা পজিটিভ রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, পড়শি জেলা পূর্ণিয়ায় করোনা পজিটিভ রোগীর সন্ধান মেলায় নতুন করে চিন্তা বাড়ল।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সীমানা লাগোয়া গ্রামগুলির মূল বাজার ডালখোলাই। বছরভর মানুষজনের এ-পার ও-পার আসাযাওয়া চলে। লকডাউনে আন্তঃরাজ্য সীমানা সিল করা হয়েছে। কিন্তু তবু সীমান্ত গ্রাম থেকে লোকজন চোরাপথে জিনিসপত্র কেনার জন্য ডালখোলায় আসছেন, অভিযোগ বাসিন্দার। আবার পুলিশকে না জানিয়ে ডালখোলা দু’-এক জন ব্যবসাদারও সীমানার ওপারের লোকজনকে জিনিস বেচেছেন বলে খবর। এখন আশঙ্কা, সীমান্ত এলাকায় বিপত্তি না বাড়ে।
উত্তর দিনাজপুরের স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘সত্যিই চিন্তার কথা। ওই ব্যবসায়ীর সংস্পর্শে আসা লোকজন এ পারে এসেছেন কিনা খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ডালখোলার উপর নজরদারি চলছে।’’
অবশ্য ইসলামপুর পুলিশ জেলার সুপার সচিন মক্কার জানিয়েছেন, ‘‘আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সতর্ক থাকতে হবে। যে ব্যক্তি আক্রান্ত আমাদের জেলার থেকে তাঁর বাড়ির দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। তবে সীমান্ত এলাকায় লকডাউন চলছিল।’’\