জনহীন: লকডাউনে কোচবিহার শহরের রাস্তা। শনিবার। ছবি: হিমাংশুরঞ্জন দেব
২৪ ঘণ্টা পেরোতেই আবার এক দৃশ্য। বৃহস্পতিবারে লকডাউনের পরে শুক্রবার আনলকে সব বাঁধ যেন ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। শনিবার পুলিশ কঠোর হাতে সব নিয়ন্ত্রণ করতেই ফের রাস্তাঘাট সুনসান।
কোচবিহার
কথায় আছে, ‘মর্নিং শোজ় দ্য ডে’। দিনটি কেমন যাবে তা সকাল দেখেই অনুমান করা যায়। সাতসকালে সেই ইঙ্গিত মিলেছিল রাস্তায় নেমে পড়া মহকুমাশাসকের অভিযানে। একসময়ের ‘রাজনগর’ কোচবিহারের এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে সদলবলে তিনি চষে বেড়ালেন। কখনও লাঠি হাতে সতর্ক করলেন পথচারীকে। কখনও আবার খুলে রাখা কড়া ধমক দিয়ে দোকান বন্ধ করে দিলেন। ফাঁকা রাস্তায় গাড়ি চালানো শিখছিলেন এক ব্যক্তি। তাঁকেও বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৫টা থেকে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা এই অভিযান চলেছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে ছিল পুলিশের নজরদারি। সবমিলিয়ে দিনের শুরুতেই পুলিশ, প্রশাসনের এমন কড়াকড়িতে উধাও রাস্তাঘাটে অন্যদিনের ভিড়ের চেনা ছবি। সবমিলিয়ে শনিবার সাপ্তাহিক পূর্ণাঙ্গ লকডাউনের ছবিই দেখল শহর। কোচবিহারের সদর মহকুমাশাসক সঞ্জয় পাল বলেন, “সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান হয়েছে। অল্প কিছু দোকান খুললেও তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।”
বেলা যত গড়িয়েছে তত বেড়েছে রোদের তাপ। শহরের সুনীতি রোড থেকে কেশব রোড, বিশ্বসিংহ রোড থেকে এনএনএন রোড— রাস্তাঘাট ছিল প্রায় ফাঁকা। ভবানীগঞ্জ বাজার, নতুন বাজার, দেশবন্ধু মার্কেট, রেলগেট বাজারও ছিল বন্ধ। পুলিশের নজরদারিও এতটা কড়া ছিল যে, দু’চারজন যাঁরা বাইক নিয়ে ‘শহর দেখতে’ বেরোন, দূর থেকেই অনেকেই উল্টো দিকের রাস্তায় বাড়িমুখো হয়েছেন। ডিএসপি ট্র্যাফিক চন্দন দাস বলেন, “যানবাহন নিয়েও কড়া নজরদারি ছিল।”
জলপাইগুড়ি
রাস্তার পাশে ছোট একটি জলাশয়। ছিপ ফেলে বসেছিলেন জনাকয়েক যুবক। তাঁদের পাশে এসেই পুলিশের জিপ ব্রেক কষে। পুলিশ দেখেই পালাতে শুরু করেন যুবকেরা। উঠতে গিয়ে পা হড়কে যায় তাঁর। লাঠি হাতে পুলিশকে ছুটে যেতে দেখে সেই যুবক লুকোন পিছনের ঝোপে। পুলিশকর্মীরাই যুবককে ঝোপ থেকে বেরিয়ে আসতে বলেন। ঝোপ থেকেই যুবক উত্তর দেয়, “বেরিয়ে এলে মারবেন না তো, স্যর?” পুলিশ আশ্বাস দিলে যুবক বলতে থাকেন, “আর লকডাউন ভাঙব না।” মিনিট দশেক পরে যুবক বাড়ি ফিরে যান। এক পুলিশকর্মী বলেন, “সকলে সচেতন হলেই আমাদের কাজ কমে।”
শনিবারের সকালে জলপাইগুড়ি শহরের রাস্তায় অনেককে দেখা যায়। পুলিশি টহল এবং ধরপাকড় শুরু হতেই সুনসান হয়ে যায় রাস্তা। দুপুরের দিকে মোড়ে নজরদারির দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীদের অনেককেই বসে বিশ্রাম করতে দেখা গিয়েছে। ওষুধের দোকান খোলা থাকলেও বেশি ভিড় ছিল না। জেলার এসপি প্রদীপকুমার যাদব বলেন, ‘‘মানুষ অনেকটাই সচেতন হয়েছে। লকডাউন সম্পূর্ণ সুস্থ ভাবে মেনে নিয়েছেন জেলাবাসী। এর পরেও লকডাউন ভাঙার অভিযোগে জেলায় বিকেল পর্যন্ত ৪০জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’’
আলিপুরদুয়ার
গত বৃহস্পতিবার নতুন পর্বের লকডাউন শুরুর প্রথম দিনেই আলিপুরদুয়ার জেলার বিভিন্ন জায়গায় কঠোর মনোভাব নিতে দেখা গিয়েছিল পুলিশকে। শনিবার, সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের লকডাউনে জেলায় পুলিশের কড়াকড়ি আরও বেশ খানিকটা বাড়ল। জেলা জুড়ে লকডাউন ভেঙে গ্রেফতার প্রায় ১৫০ জন। তবে এ দিনও স্তব্ধ ছিল আলিপুরদুয়ার শহর।
শহর ও জেলার বিভিন্ন জায়গায় লকডাউনের বেশ ভালই প্রভাব পড়ে। সকাল থেকেই কার্যত সুনসান ছিল শহরের প্রায় সব রাস্তাঘাট। তার মধ্যেই চলে পুলিশের টহল। অভিযোগ, তার পরেও লকডাউন উপেক্ষা করে কেউ কেউ রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। অনেকে মাস্ক ছাড়াও বাড়ির বাইরে বের হন। সতর্ক করেও কাজ না হওয়ায় লকডাউন ভঙ্গকারীদের ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ।