ধৃত পঞ্চায়েত প্রধান স্মৃতিকণা মণ্ডল (সামনে)। গ্রেফতার করা হয়েছে প্রধানের স্বামী অনিলকুমার মণ্ডলকেও (পিছনে)। —নিজস্ব চিত্র।
তৃণমূল পরিচালিত কৃষি উন্নয়ন সমিতির ব্যাঙ্কে কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগে গ্রেফতার পঞ্চায়েত প্রধান এবং তাঁর স্বামী। আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় ধৃতদের উদ্দেশে উঠল ‘চোর-চোর’ স্লোগান। শুক্রবার মালদহের রতুয়ার ঘটনা।
ধৃতদের নাম স্মৃতিকণা মণ্ডল এবং অনিলকুমার মণ্ডল। পুলিশ সূত্রে খবর, রতুয়া-১ ব্লকের কৃষি উন্নয়ন সমিতি লিমিটেডের মিনি ব্যাঙ্কের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের পরিবার। প্রতারিতদের অভিযোগ, ওই ব্যাঙ্কের ম্যানেজারের দায়িত্ব সামলাতেন প্রধানের স্বামী অনিল। পরে পুত্র অমিতকুমার মণ্ডলকে ম্যানেজার পদে বসান অনিল এবং স্মৃতিকণা। হিসাবরক্ষক হন তাঁদের ভাইপো প্রণবকুমার মণ্ডল।
এলাকার প্রায় ৫ হাজার ক্ষুদ্র কৃষিজীবী এবং সাধারণ মানুষ সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে সঞ্চিত অর্থ জমা রাখতেন। তাঁদের অভিযোগ, বছরখানেক আগে আচমকা ব্যাঙ্কে শাটারে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। উধাও হয়ে যায় সমবায় সমিতির বোর্ডও। প্রধানের ম্যানেজার পুত্র এবং ক্যাশিয়ার ভাইপোর খোঁজ মিলছিল না। আমানতকারীদের দাবি, প্রায় ১৩-১৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে গা ঢাকা দিয়েছেন তাঁরা। বিলাইমারি এলাকার বাসিন্দা হৃদয় মণ্ডল গত ১৪ মে রতুয়া থানায় স্মৃতিকণা, তাঁর স্বামী, পুত্র এবং ভাইপোর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। তার ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান এবং তাঁর স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি আঁচ করে বাকিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে বলে পুলিশ অনুমান করছে।
শুক্রবার ধৃতদের আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় ক্ষুব্ধ আমানতকারীরা রতুয়া থানার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ধৃতদের উদ্দেশ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগান ওঠে। ঘটনাক্রমে বেশ কয়েক জন আমানতকারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘ এক বছর ধরে ব্যাঙ্কে তালা ঝুলছে। নিজেদের জমানো টাকা ফেরত না পেয়ে চরম সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন তাঁরা। তাঁদের এ-ও অভিযোগ, আমানতকারীদের টাকা আত্মসাৎ করে অভিযুক্তরা নিজেদের সম্পত্তি বৃদ্ধি করেছেন। যদিও আদালতে যাওয়ার পথে ধৃত স্মৃতিকণা মণ্ডল অভিযোগ অস্বীকার করেন।