Falta's Jahangir Khan

১০ দিন পর প্রকাশ্যে ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির! দলীয় কার্যালয় খুলে উপনির্বাচনের জন্য তৈরি তৃণমূল প্রার্থী বললেন, ঝুঁকেগা নহি

আদিত্যনাথের রাজ্যে ‘সিংহম’ বলে খ্যাত আইপিএস অজয়পাল শর্মা ফলতার তৃণমূল প্রার্থীর বাড়ি খুঁজে গিয়ে তাঁকে সাবধান করে এসেছিলেন। তার পর জাহাঙ্গির খান বলেছিলেন, ওই পুলিশ আধিকারিক ‘সিংহম’ হলে তিনিও ‘পুষ্পা’।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ ২১:২৬
Share:

১০ দিন পরে ফলতার তৃণমূল কার্যালয় খুললেন জাহাঙ্গির খান। —নিজস্ব চিত্র।

২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে তিনি অন্যতম আলোচিত চরিত্র। কিন্তু ফলতা বিধানসভায় উপনির্বাচন ঘোষণা এবং তার পরে তৃণমূলের ভরাডুবির পর তিনি ছিলেন লোকচক্ষুর আড়ালে। নানা জল্পনা চলছিল। ১০ দিন পর আবার জনসমক্ষে এলেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। বন্ধ হওয়া দলীয় কার্যালয় খুলে তিনি আবার বললেন, ‘ঝুঁকেগা নহি’।

Advertisement

অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট করানোর জন্য নানা ব্যবস্থা করেছিল নির্বাচন কমিশন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারে ভোটের সময় নজরদারি করতে উত্তর প্রদেশের এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট অজয়পাল শর্মাকে নিয়ে এসেছিল তারা। পুলিশ পর্যবেক্ষক হয়ে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলায় গিয়ে অজয়পালের অন্যতম গন্তব্য ছিল ফলতা। অনতিবিলম্বে শুরু হয়ে যায় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির বনাম ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’ অজয়পালের ঠান্ডা লড়াই।

আদিত্যনাথের রাজ্যে ‘সিংহম’ বলে খ্যাত পুলিশ আধিকারিক ফলতার তৃণমূল প্রার্থীর বাড়ি খুঁজে গিয়ে তাঁকে সাবধান করে গিয়েছিলেন। তার পর জাহাঙ্গির বলেছিলেন, ওই পুলিশ আধিকারিক ‘সিংহম’ হলে তিনিও ‘পুষ্পা’। শেষমেশ ভোট মিটলেও ফলতায় অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। শুক্রবার দলীয় কার্যালয় খুলে প্রথমেই সে নিয়ে মুখ খোলেন জাহাঙ্গির। তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীরকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

Advertisement

জাহাঙ্গিরের অভিযোগ, নিরপেক্ষ ভাবে ভোট পরিচালনা করা হয়নি। পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘‘২৯ তারিখে দ্বিতীয় তথা শেষ দফা ভোট ছিল। সে দিন এই বিধানসভায় মাত্র ৩২টি বুথ নিয়ে অভিযোগ করে বিরোধীরা। কিন্তু কমিশন ২৮৫টি বুথেই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তা হলে কে হারল? আমি?” তাঁর বহুলচর্চিত এবং বিতর্কিত ‘পুষ্পা, ঝুঁকেগা নহি’ মন্তব্য থেকেও সরছেন না তৃণমূল প্রার্থী। সিনেমার অ্যান্টি হিরোর সংলাপ কেন একজন প্রার্থীর মুখে, তা নিয়ে কটাক্ষ করে বিজেপি। এখন জাহাঙ্গিরের অভিযোগ, ভোটের সময় পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল প্রচুর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। তা সত্ত্বেও ২৯ তারিখের ভোট তিনি করিয়েছেন।

রাজ্যের পালাবদলের পর সার্বিক পরিস্থিতি দেখে তিনি চুপ ছিলেন বলে দাবি করেছেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী। তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। এমন সময়ে স্বাভাবিক ভাবেই কিছুটা অশান্ত থাকে পরিবেশ। ফলতায় যাতে কোনও উত্তেজনা বা অশান্তি না ছড়ায় এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তা বজায় থাকে, সেই কারণেই কিছুটা নীরব ছিলাম।’’ তবে তিনি এলাকা ছাড়েননি এবং পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছিলেন বলেও জানান তৃণমূল প্রার্থী।

ফলতা জুড়ে জোর ভোটপ্রচার করেছিল তৃণমূল। উপনির্বাচনে আর আলাদা করে প্রচারের প্রয়োজন বোধ করছেন না জাহাঙ্গির। নিজেকে ফলতার ‘ভূমিপুত্র’ আখ্যা দিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘‘ঝড় এলে, ঢেউ এলে মাথাটা একটু নিচু করতে হয়। ঝড়ে আমরা একটু মাথা নিচু করেছিলাম। আবার মাথা তুলে দাঁড়াব।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement