মুখ্যমন্ত্রীর মালবাজারের সভা থেকে ফেরার পথে ছোট গাড়ির ধাক্কায় মারা গেলেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জলপাইগুড়ি শহর ব্লক সভাপতি অমিত চৌধুরী (২৮)।
বুধবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ লাটাগুড়ির মহাকাল মন্দিরের সামনে তিনি দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সদর হাসপাতালে ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে’ ভর্তি করানো হলে সেখানে তিনি মারা যান। পুলিশ গাড়ি আটক করে চালককে গ্রেফতার করেছে। এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তে শহরে শোকের ছায়া নেমে আসে। যুব তৃণমূল কর্মীরা হাসপাতাল চত্বরে ভিড় করেন।
সদর হাসপাতালের সুপার গয়ারাম নস্কর বলেন, “অমিতবাবুর আঘাত মারাত্মক ছিল। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে রেখে অনেক চেষ্টা করেও লাভ হয়নি।” তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি সৈকত চট্টোপাধ্যায় বলেন, “অমিতবাবুকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসার সুযোগ মেলেনি।” জেলা পুলিশ সুপার আকাশ মেঘারিয়া বলেন, “গাড়িটি আটক করে চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে।”
যুব তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, মালবাজারে সভা শেষ হলে অমিতবাবুরা ছোট গাড়িতে জলপাইগুড়ির দিকে রওনা দেন। গরুমারা জঙ্গলের লাটাগুড়ির কাছে ওই গাড়ি এসে দাঁড়ায়। অমিতবাবুরা সেখানে হাতি দেখতে ও পুজো দিতে যান। তারপরে কয়েকটি হাতিও দেখতে পান তাঁরা। হাতি আসছে দেখে সঙ্গীরা লুকিয়ে পড়েন। অমিতবাবু রাস্তা পার হতে যাচ্ছিলেন। তখনই মালবাজারগামী একটি ছোট গাড়ি যুব নেতাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে পিষে দেয় বলে অভিযোগ। সংগঠনের কর্মীরা অমিতবাবুকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই তিনি মারা যান।
শহরের কদমতলা সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা অমিতবাবু গত জুন মাসে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জলপাইগুড়ি শহর ব্লক সভাপতির দায়িত্ব নেন। নিম্নবিত্ত পরিবারের ওই যুবক রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে তৃণমূলের সমর্থক ছিলেন। জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি জানান, অমিত পরিবারের একমাত্র ছেলে। ভাল সংগঠক ছিলেন। বাম বিরোধী আন্দোলনে প্রথম সারির যুব নেতা ছিলেন তিনি। রাতে অমিতবাবুর বাড়িতে যান তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাস।