বর্ষা প্রায় শেষ, দাম কমেনি ইলিশের

চলতি বছরে তেমন ভাবে ইলিশের দেখা মেলেনি। বড় ইলিশের বিকল্প হিসেবে হাত বাড়াতে হয়েছে সামান্য আমদানি হওয়া ছোট আকারের ইলিশের দিকে। উত্তরের ইলিশপ্রেমীদের আশা ছিল ভরা বর্ষার মরসুম এলে অন্তত হতাশ হতে হবে না। কিন্তু বর্ষার মরসুম প্রায় শেষের দিকে।

Advertisement

সংগ্রাম সিংহ রায়

শেষ আপডেট: ২২ অগস্ট ২০১৫ ০২:৩০
Share:

চলতি বছরে তেমন ভাবে ইলিশের দেখা মেলেনি। বড় ইলিশের বিকল্প হিসেবে হাত বাড়াতে হয়েছে সামান্য আমদানি হওয়া ছোট আকারের ইলিশের দিকে। উত্তরের ইলিশপ্রেমীদের আশা ছিল ভরা বর্ষার মরসুম এলে অন্তত হতাশ হতে হবে না। কিন্তু বর্ষার মরসুম প্রায় শেষের দিকে। এখনও বড় ইলিশ ঢোকেনি উত্তরের বাজারে। তার উপরে উত্তরের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজারে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনের জেরে গত কয়েকদিন সব রকম মাছের জোগানেই বাধা পড়েছে। ফলে আগামী কয়েকদিনে যে কোনও রকম মাছ পাওয়াই কঠিন হতে পারে আশঙ্কায় রয়েছেন মাছ বিক্রেতারা।

Advertisement

আপাতত বাজারে রয়েছে ৫শো গ্রাম থেকে ৭শো গ্রাম ওজনের ইলিশ। গোটা মরসুমে এই ইলিশই ইলিশপ্রেমীদের রসনা তৃপ্তি করেছে। বড় ইলিশ কদাচিত দেখা গেলেও তাতে হাত দিতে পারেনি সাধারণ ক্রেতারা। ১২শো বা ১৪শো টাকা কেজি দরে বিকিয়েছে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ। তাও বিধান মার্কেট বা সুভাষপল্লি বাজার কিংবা গেটবাজারের মতো বড় বাজার ছাড়া অত বড় ইলিশ দেখা যায়নি। শহরের অন্য বাজারগুলির ক্রেতাদের ছোট ইলিশের উপরেই বেশিরভাগ সময়েই নির্ভর করতে হয়েছে। যেখান থেকে বেশিরভাগ মাছ ঢোকে উত্তরবঙ্গে, সেই ডায়মন্ড হারবারে অতি বৃষ্টির কারণে মাছ ধরা বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে বর্ষার ইলিশের উপরে কোপ পড়েছে। এবারে মাছ আসেনি মুম্বই বা ওডিশা থেকেও। তাতে সমস্যা হয়েছে বলে বাজার সূত্রে জানানো হয়েছে।

শিলিগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেট মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক বাপি চৌধুরি বলেন, ‘‘গোটা মরসুমে মাত্র কয়েকবার এক বা দুই ঝুড়ি করে বড় ইলিশ ঢুকেছে। তা পাইকারি বাজারেই আটশো থেকে হাজার টাকা দরে বিকোয়। ফলে খুচরো বাজারে দাম আকাশছোঁয়া হবেই।’’ রেগুলেটেড মার্কেটের মাছ ব্যবসায়ীদের সভাপতি আলম খান দাবি করেন, ‘‘গত এক সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের আন্দোলনের ফলে অন্য মাছের সঙ্গে ইলিশের পর্যাপ্ত আমদানিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।’’ শিলিগুড়ির ফিশারি এক্সটেনশন অফিসার সুরজিৎ মৈত্রও রেগুলেটেড মার্কেটের সমস্যায় সামান্য আমদানি থেকেও সরবরাহকারীদের বিমুখ করেছে বলে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘লাগাতার আন্দোলন মাছ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটিয়েছে।’’

Advertisement

সাধারণ ইলিশপ্রেমীদেরও মন খারাপ। তাঁদের অনেকেই জানিয়েছেন, দেদার ইলিশ মিলবে বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু মরসুম শেষের মুখেও আশা পূরণ না হওয়ায় হতাশ তাঁরা। সুভাষপল্লি বাজারে বাজার করেন কল্লোল দাস। তিনি বলেন, ‘‘প্রতিদিনই বাজারে যাই, কম দামে বড় ইলিশ বোধহয় আজ ঢুকবে এই ভেবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ঢোকে না। আদৌ ঢুকবে কি না তাও বুঝতে পারছি না।’’ বিধান মার্কেটে বাজার করেন হাকিমপাড়ার দেবাশিস বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘‘বিধান মার্কেটে বড় ইলিশ পাওয়া যায় বটে। ভাবি, অন্তত ৭ শো -৮শো টাকা প্রতি কেজিতে দাম নামবে বড় ইলিশের। কিন্তু এ বছর বাজার করে সুখ পাওয়া গেল না।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement