ভারত বর্ষের মধ্যে দ্বিতীয় ফলের গবেষণাগারের শিলান্যাস হল মালদহ জেলায়। রবিবার সকালে ইংরেজবাজার পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষি ফার্মে শিল্যানস করলেন রাজ্যের উদ্যান পালন ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সাব ট্রপিক্যাল রিসার্চ সেন্ট্রারের অধিকর্তা এনকে কৃষ্ণ কুমার সহ বিশিষ্টরা। বিধানসভা ভোটের আগে নির্বাচনী চমক দিতে তড়িঘড়ি গবেষণাগারের শিলান্যাস করা হল বলে কটাক্ষ করেছেন বিরোধীরা। সিপিএমের জেলা সম্পাদক অম্বর মিত্র বলেন, ‘‘ভোটের আগে তড়িঘড়ি শিলান্যাস করে চমক দিতে চাইছে রাজ্য সরকার। বাস্তবে কৃষকেরা এই সুবিধে কত দিনে পাবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।’’ একই সুরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উত্তর মালদহের সাংসদ তথা জেলা কংগ্রেসের সভানেত্রী মৌসম নুর। বিরোধীদের অভিযোগকে পাল্টা কটাক্ষ করে কৃষ্ণেন্দুবাবু বলেন, ‘‘বিরোধীদের কুৎসা করাই কাজ। উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন না। গবেষণাগার তৈরি হলে সব জেলার চাষিরাই উপকৃত হবেন।’’
মালদহে গত বছর ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছে। চলতি বছরও ভাল ফলনের আশা করছেন উদ্যান পালন দফতরের কর্তারা। তবে জেলার বাইরে আম তেমন রপ্তানি না হওয়ায় লোকসানের মুখ দেখতে হয় চাষিদের। রাজ্যের বাইরে গেলেও দেশের বাইরে তেমন চাহিদা নেই। উদ্যান পালন দফতরের কর্তাদের দাবি, জেলায় আমের গুণগত মান কমছে। চাষিরা বেশি ফলনের আশায় বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করছেন। যার ফলে স্বাদ নষ্ট হচ্ছে। ১৫ বছর আগে গবেষণাগার নিয়ে প্রস্তাব পাঠানো হলেও জমির সমস্যা থাকায় গড়ে ওঠেনি। প্রশাসনের তরফে জেলার কৃষি ফার্মের ৭০ একর জমি তুলে দেওয়া হলে এ দিন তাতে শিলান্যাস হয়। উদ্যান পালন দফতর জানায়, ভারতে লক্ষ্ণৌতে রয়েছে এই রিসার্চ সেন্ট্রার। দ্বিতীয়টি হচ্ছে মালদহে। জেলা প্রশাসন সূ্ত্রে জানা গিয়েছে, গবেষণাগার তৈরি হলে এখানে চারজন বৈজ্ঞানিক থাকবেন গবেষণা করার জন্য। এখানে অফিসও করা হবে। এক সঙ্গে শতাধিক চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। উন্নত মানের বীজ তৈরি করে চাষিদের বিলি করা হবে।