সোমবার ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে ভারত-সহ সার্কভুক্ত চার দেশের মুক্ত সড়ক পরিবহণ চুক্তির পর গভীর রাত অবধি জেগে ইন্টারনেট ঘেঁটেছেন, বাংলাদেশের চট্টগ্রামের বাসিন্দা আবির বড়ুয়া। পেশায় আমদানি-রফতানি ব্যবসায়ী আবির কিছুদিন আগেও কলকাতা, দার্জিলিং ঘুরে যান। এবার নিজের গাড়িতে গোটা পরিবারকে নিয়ে এদেশে আসতে চান। রাত জেগে তারই খোঁজখবর নিয়েছেন আবির। এদিন ফেসবুক-এর মাধ্যমে আবির বলেন, ‘‘সব ঠিক থাকলে এবার তো মাত্র ১২ ঘন্টায় গাড়ি নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে বেনাপোল বা সিলেট হয়ে ভারতে চলে আসতে পারব। আমাদের কত আত্মীয়স্বজন, বন্ধুরা পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে। কম খরচে পরিবারের সকলে বাংলা ঘুরে যেতে পারবে। যত দ্রুত নিয়মটা চালু হয়, ততই ভাল।’’
আবিরের মত এ রাজ্যেরও অনেকেই ভাবছেন, বাসে বা গাড়িতে সোজা কোচবিহারের চ্যাংরাবান্ধা, হিলি বা পেট্রাপোল দিয়ে বাংলাদেশ তো বটেই, ভুটানের থিম্পু ও পারো যাবেন। অনেককেই আবার হাতছানি দিচ্ছে নেপালের কাঠমান্ডু বা পোখরাও। নতুন ওই চুক্তিতে উৎসাহিত বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সংগঠন থেকে শুরু করে পর্যটন ব্যবসায়ীরাও। তাঁরা সকলেই জানাচ্ছেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন বছরের গোড়ায় মুক্ত সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থা ভারত, নেপাল, ভুটান এবং বাংলাদেশের চালু হয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
দার্জিলিঙের সাংসদ তথা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা সুরেন্দ্র সিংহ অহলুওয়ালিয়া বলেন, ‘‘চার দেশের মধ্যে এটা একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। চুক্তি কার্যকর হলে বাণিজ্য এবং পযর্টন সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। আর উত্তরবঙ্গ এমন জায়গা, যেখানে ওই তিনটি দেশের সীমান্তই রয়েছে।’’ সরকারি সূত্রের খবর, গত নভেম্বর মাসে নেপালের কাঠমুন্ডুতে সার্ক সম্মেলনে মুক্ত সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে ঠিক হয, সার্কভুক্ত সব দেশই চুক্তিতে সই করবে।এতদিন সরাসরি এইভাবে গাড়ি নিয়ে চার দেশে ঘোরাফেরার সুযোগ ছিল না।
এখন নেপাল, ভুটানে গাড়ি নিয়ে যাওয়া গেলেও বিশেষ পারমিট, রোডট্যাক্স দিতে হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই গাড়ির চালকদের আইনগত সমস্যায় পড়তে হয় বলেও অভিযোগ। বাংলাদেশে অবশ্য এভাবে যাওয়ার উপায় নেই। সড়ক পথে সীমান্ত অবধি বাসে গিয়ে ওপারে আবার নতুন বাসে যেতে হয়। কিছুদিনের মধ্যে গাড়িতে কী ধরণের নথিপত্র রাখতে হবে আর কী কী পণ্য নিয়ে যাওয়া যাবে না, সেই তালিকা তৈরি হবে। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক আইন সংশোধন করে নতুন চুক্তি লাগু কবে দেবে।
উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ীদের সর্ববৃহৎ সংগঠন ফোসিনের সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই দাবি করে আসছিলাম। অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকার তা করল। এতে ব্যবসা বাণিজ্য তো বটেই পযর্টন আরও বাড়বে।’’নতুন চুক্তি কার্যকর হলে উত্তরবঙ্গ নতুন করে ‘বাণিজ্য এবং পযর্টন হাবে’ পরিণত হবে বলে মনে করেন পযর্টনের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত রাজ বসু, সম্রাট সান্যালেরা। তাঁরা জানান, রাজ্যের এই প্রান্তের সব কটি দেশের সীমান্ত রয়েছে। যা অন্য কোথাও নেই। নাথু লা খুলে গিয়েছে। বাংলাবান্ধাও খুলছে। লাসা থেকে চট্টগ্রাম এতে একসঙ্গে জুড়ে যাবে। অনেকটা পুরানো ‘সিল্ক রুটে’র মত।