মিডডে মিলে নজরদারি নেই প্রশাসনের। ফলে স্কুলগুলিতে অনেক পরিমাণ আলু এক সঙ্গে মজুত রাখার ফলে তাতে পচন ধরছে। মিডডে মিলের চালের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন ডান বাম সব রাজনৈতিক দলই। অনেকেরই দাবি, এলাকার কিছু কিছু স্কুলে খাবারের মান ঠিক থাকলেও অনেক স্কুলের মানই জঘন্য। আবার গরমের ছুটিতে অনেক স্কুলের মজুত আলুতে পচন ধরতে শুরু করেছে। ফলে স্কুল খুললেই তা নিয়েও সমস্যা তৈরি হবে। যদিও বিষয়টি নিয়ে চোপড়ার বিডিও অতনুকুমার মণ্ডল বলেন, ‘‘১১ মে-র মধ্যে স্কুলগুলিতে আলু বণ্টনের কাজ হয়ে গিয়েছে। যে সকল আলু বেঁচেছে, সেগুলি আইসিডিএস সেন্টারগুলিকে দেওয়া হয়েছে। তবে স্কুলগুলি যত দিন খোলা থাকবে তা খাইয়ে দিতে বলা হয়েছে। কোনও স্কুলে আলু মজুত থাকার কথা নয়। তবে চালের বিষয়টি জানা নেই, খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।’’
চোপড়া স্কুলের অধীনে বেশ কিছু হাইস্কুল রয়েছে। এর পাশাপাশি রয়েছে প্রাইমারি, এসএসকে, এমএসকে। বাসিন্দাদের দাবি, চোপড়ার কিছু স্কুলে মিডডে মিল নিয়ম মেনে খাওয়ানো হলেও অনেক স্কুলেই মিডডে মিলের মান নিম্ন। চাল ও পচা আলু নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ডান বাম সব রাজনৈতিক দলই। কংগ্রেসের চোপড়া ব্লক সভাপতি অশোক রায় বলেন, ‘‘অনেক স্কুলেই মিডডে মিল খাওয়ানো বন্ধ রয়েছে কয়েক মাস ধরেই। যে স্কুলগুলিতে খাওয়ানো হয়, তার চালের মান খুবই খারাপ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঠানো আলুর অবস্থাও একই। স্কুল ও প্রশাসনের কর্তাদের বার বার বলেও লাভ হয়নি।’’ অপর দিকে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের উপর দোষ চাপিয়েছেন চোপড়ার সিপিএম-এর জোনাল কমিটির সম্পাদক আনাওয়ারুল হক। তিনি বলেন, ‘‘প্রশাসনের উচিত মিডডে মিলের উপরে বিশেষ নজর দিতে একটি দল গঠন করা। অনেক স্কুলের চাল খুব নিম্ন মানের। বস্তাতে থেকে আলু পচতে শুরু করেছে। বাচ্চারা ওই খাবার খেলে সুস্থ থাকতে পারবে কি?’’ যদিও চালের মানের বিষয়টি অস্বীকার করেননি চোপড়ার তৃণমূল নেতা সাইন আখতার। তিনি বলেন, ‘‘আমিও শুনেছি কিছু কিছু এলাকায় চালের মান খুবই খারাপ এসেছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনব।’’ অপর দিকে তিনি আরও বলেন, ‘‘আলু বিতরণ শেষ হয়েছে ১১ মে। তবে তার পর পরই অনেক স্কুলে ছুটি পড়েছে। সেই হিসেবে আলুর পচন ধরা অস্বাভাবিক নয়।
তবে স্কুল সূত্রে খবর, চোপড়া ব্লকের অধীনে অনেক স্কুলই ছুটি পড়েছে. তবে কিছু কিছু স্কুল ছুটি হবে আগামী ১২ জুন. চোপড়া হাই্স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত বসাক বলেন,চালের মান নিয়ে কোন সমস্যা নেই. তবে স্কুল ছুটির দুদিন আগেই আলু এসেছে. সেই আলু যতটা পেরেছি ছাত্রদের খাইয়েছি. কয়েক বস্তা আলু রয়েছে তা থাকার ফলে পচন ধরতে পারে. স্কুল খোলার পরই দেখা যাবে কি পরিমান নষ্ট হয়েছে. অপর দিকে চোপড়ার মাজিয়ালি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মতিবুর রহমান বলেন,প্রায় ৬ বস্তা আলু পেয়েছি. তবে বস্তা ঢালতে গিয়ে ১০থেকে ১৫ টি আলু পচা পেয়েছি. তা ফেলেই রান্না করা হয়েছে. স্কুল বন্ধ হবে ১২ জুন. স্কুল বন্ধ হওয়ার সময় আলু মজুত থাকলে তা নষ্ট হতে পারে।