— প্রতীকী চিত্র।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার রাতে কসবায় ছুরির আঘাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন চার যুবক। সোমবার এসএসকেএম হাসপাতালে তাঁদের মধ্যে এক জনের মৃত্যু হল। ঘটনাটি ঘিরে এ দিন কসবার সুইনহো লেনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় মানুষ। যদিও পুলিশের দাবি, ওই যুবকের মৃত্যুর পিছনে কোনও রাজনৈতিক হিংসা নেই। পুরনো বিবাদকে ঘিরেই ওই যুবকেরা আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে এ পর্যন্ত ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি।
পুলিশ সূত্রের খবর, মৃতের নাম অর্ঘ্য দাস (২৪)। তিনি পড়াশোনা শেষ করে ছোটখাট কাজকর্ম শুরু করেছিলেন। অর্ঘ্য ছিলেন পরিবারের বড় ছেলে। পরিজনেদের অভিযোগ, বিধানসভা ভোটের রাতে কিছু দুষ্কৃতী গেরুয়া আবির মেখে এলাকায় চড়াও হয়েছিল। এলাকার লোকজনকে তারা মারধর করতে গিয়েছিল। সেই সময়ে অর্ঘ্য-সহ চার জন দুষ্কৃতীদের বাধা দেন। অভিযোগ, সেই সময়ে এক দুষ্কৃতী তাঁদের চার জনকে ছুরি মারে।
অর্ঘ্যের বন্ধুরা জানান, অর্ঘ্য এবং তাঁর ভাই কৌশিক ছাড়াও অনুপম রায় এবং সায়ন নস্কর নামে দু’জন ছুরির আঘাতে জখম হন। তাঁদের চিকিৎসার জন্য এসএসকেএমে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যেরা সুস্থ হয়ে গেলেও অর্ঘ্য সেরে ওঠেননি। তাঁর পেটে ছুরির আঘাতের জেরে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছিল। ঘটনাকে ঘিরে শোকস্তব্ধ সুইনহো লেনের ওই এলাকার বাসিন্দারা।
পুলিশ দাবি করেছে, দোলের দিন ওই যুবকদের সঙ্গে অভিযুক্তদের গোলমাল হয়েছিল। তার জেরেই ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণার দিনে ওই ঘটনা ঘটে। অর্ঘ্যের পরিজনেরা জানান, অভিযুক্তেরা পাড়ায় মদের আড্ডা বসাত। তা নিয়ে অর্ঘ্যদের সঙ্গে পুরনো গোলমাল ছিল। ফলে ঘটনার সঙ্গে যে সরাসরি রাজনৈতিক যোগ নেই, তা স্বীকার করেছেন অর্ঘ্যের বন্ধুরাও। তবে তাঁরা দাবি করেছেন যেদুষ্কৃতীরা গেরুয়া আবির মেখে এসেছিল। এক পরিজনের কথায়, ‘‘অর্ঘ্য বা ওর বন্ধুরা কেউই কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। কিন্তু দুষ্কৃতীরা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের স্লোগান দিতে দিতে এলাকায় ঢুকেছিল ওই রাতে।’’
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিন দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে তাঁরা লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। তারা সম্পর্কে ভাই হয়। তাদের এক জনকে সম্প্রতি এলাকায় দেখাও গিয়েছিল। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি তাঁরা পুলিশকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু ওই দুষ্কৃতীকে গ্রেফতারের বদলে পুলিশ তাঁদের সঙ্গেই খারাপ ব্যবহার করেছে বলে এ দিন অভিযোগ করেন ওই পাড়ার বাসিন্দারা। আজ, মঙ্গলবার অর্ঘ্যের দেহের ময়না তদন্ত করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। দুষ্কৃতীদের খোঁজা হচ্ছে। তবে অভিযোগকারীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে