হাতখানেক বা তারও বেশি লম্বা, ঘন সবুজের উপরে সাদা ডোরা— সাপের মতো দেখতে বলেই হয়তো নাম স্নেক গোর্ড। বাংলায় যাকে আমরা বলি চিচিঙ্গা। পুষ্টিগুণের সঙ্গে এই সব্জির পাইকারি দামও কিন্তু বেশ চড়া। গ্রীষ্ম থেকে ভরা বর্ষায় পটল, ঝিঙের একঘেয়ে রসনায় তরতাজা চিচিঙ্গা। অন্যান্য কুমড়ো জাতীয় সব্জির তুলনায় রোগপোকা সহনশীল বলে চাষ সহজ। রাজ্যের জলবায়ুতে এই চাষ ভাল খাপও খায়।
উন্নত জাত
পশ্চিমবঙ্গে নানা দেশি জাতের চাষ হলেও তামিলনাড়ু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কো-১ বা ২ ও পিকেএম-১ লাগালে ফলন অনেকটা বেশি পাবেন। সাদাটে সবুজের থেকে ঘন সবুজে সাদা ডোরা জাতে পাইকারি দামটাও ভাল পাওয়া যায়।
চাষের সময়
গরম কালে চাষ করাই ভাল। তবে আগাম বাজার ধরার জন্য অনেকে শীতকালেও বীজ লাগান। ঠান্ডায় গাছের বৃদ্ধি একটু কম হয়। মোটামুটি কার্তিকের শেষ থেকে আষাঢ় অবধি বীজ লাগানো চলে।
বীজ ও রোপণ
বিঘা প্রতি (৩৩ শতক) চাষে ৬০০-৭০০ গ্রামের মতো বীজ লাগে। বীজ লাগানোর আগে মূল জমিতে যতটা পারবেন গোবর সারের সঙ্গে ১ কেজি ট্রাইকোডার্মা পাওডার মিলিয়ে সঙ্গে এক কেজি নিম দানা (নিমউর্জা) ও হিউমিক অ্যাসিড দানা ২ কেজি দিয়ে গভীর চাষ দিতে হবে।
এবার ৪X২ ফুট গোল মাদা বানিয়ে প্রতি মাদায় দু’টি বীজ বুনে সেচের সুবিধা রাখুন। হাতখানেক চারায় (২০/২৫ দিনে) মাদাপিছু ৫০ গ্রাম খোল+ ২৫ গ্রাম ডিএপি ও ১৫ গ্রাম পটাশ সার দিয়ে মাটি তুলে দিন।
পরিচর্যা
সময় বুঝে বাঁশের মাচা করে লতা তুলে দিতে হবে। তিন ও ছ’সপ্তাহে ১৫-২০ গ্রাম ইউরিয়া ও ৫-৭ গ্রাম পটাশ ও হিউমিক দানা দিয়ে চাপান দিন। ফুল ও জালি আসলে বায়োজিব্বারেলিক অ্যাসিড (বাজারে পাওয়ার জিব নামে মেলে) ৫ মিলি ২০ লিটার জলের মধ্যে হিউমিক অ্যাসিড মিশিয়ে স্প্রে করুন। মাস দু’য়েকে ফল ধরার পর বাড়তে শুরু করবে যখন একেবারে নীচে সুতলি দিয়ে ছোট ঢিল বেঁধে ঝুলিয়ে দিন। এতে ফল সোজা ও সুন্দর গঠনের হবে। বিঘা প্রতি ২৫-৩০ কুইন্ট্যাল ফলনে চাষে খরচা বাদে ৫০,০০০ টাকা নিশ্চিত লাভের সম্ভাবনা।