MLA in Bankura School

হঠাৎ ক্লাসে ঢুকে শিক্ষকের সঙ্গে তর্ক জুড়লেন বিধায়ক, পরক্ষণে ঝাড়ু নিয়ে মেঝেতে ঝাঁট! বিস্মিত কচিকাঁচা পড়ুয়ারা

মঙ্গলবার দুপুরে তখন চতুর্থ পিরিয়ডের ক্লাস চলছে। স্কুল ভবনের দোতলার হলঘরে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের বাংলা পড়াচ্ছেন গোলকবিহারী বন্দ্যোপাধ্যায়। হঠাৎ ছন্দপতন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪৮
Share:

ক্লাসে ঢুকে শিক্ষকের সঙ্গে তর্কাতর্কি বিধায়কের। —নিজস্ব ছবি।

আগাম খবর দেননি। হঠাৎ স্কুলে উপস্থিত এলাকার বিধায়ক। সটান ক্লাসে ঢুকে মেঝে কেন নোংরা, তার জবাব চাইলেন শিক্ষকের কাছে। পাল্টা অনুমতি না-নিয়ে এ ভাবে ক্লাসে ঢোকার কারণ জিজ্ঞাসা করায় বাদানুবাদে জড়ালেন শিক্ষক-বিধায়ক। নির্বাক এবং হতবাক দর্শক হয়ে বেঞ্চে বসে রইল কচিকাঁচা পড়ুয়ারা। মঙ্গলবার দুপুরে এমনই ঘটনা ঘটল বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের কুশমুড়ি হাই স্কুলে।

Advertisement

মঙ্গলবার দুপুরে তখন চতুর্থ পিরিয়ডের ক্লাস চলছে। স্কুলের ভবনের দোতলার হলঘরে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের বাংলা পড়াচ্ছেন গোলকবিহারী বন্দ্যোপাধ্যায়। হঠাৎ ছন্দপতন! ক্লাসে ঢুকে পড়লেন আগন্তুক। শিক্ষক তাঁকে চিনতে পেরেছিলেন। আগন্তুক ইন্দাস বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক নির্মলকুমার ধাড়া। বাংলার শিক্ষক তাঁর দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই বিধায়কের প্রশ্ন, ‘‘মেঝে এত নোংরা কেন?’’ গোলক জানান, স্কুলে গ্রুপ ডি-র কর্মী বা সাফাইকর্মী নেই। পড়ুয়ারাই ক্লাসরুম পরিষ্কার রাখে। হাত লাগাতে হয় শিক্ষকদেরও। মঙ্গলবার চতুর্থ পিরিয়ড শেষ হলে ঘর পরিষ্কার হবে। গোলকের দাবি, তার পর বিধায়ককে খানিক অনুযোগের সুরে বলেছিলেন, এ ভাবে অনুমতি না-নিয়ে ক্লাসে ঢুকে পড়া অনুচিত। এটা শুনেই ‘চিড়বিড়িয়ে’ ওঠেন বিধায়ক। শুরু হয় বাগ্‌বিতণ্ডা। শিক্ষককে আঙুল তুলে বিধায়ক বলতে থাকেন, কেন তাঁকে অনুমতি নিতে হবে? তিনি বিধায়ক। খানিক এ ভাবে চলার পর ক্লাসরুম থেকে ঝাড়ু হাতে নিয়ে বেরিয়ে স্কুল চত্বর সাফসুতরো করতে শুরু করেন বিধায়ক। পুরো ঘটনায় হতবাক পড়ুয়ারা।

বাংলার শিক্ষক গোলোক জানান, তিনি বিধায়কের ব্যবহারে ব্যথিত। তাঁর কথায়, ‘‘প্রায় ২২ বছর ধরে এই স্কুলে শিক্ষকতা করছি। কখনও এমন অভিজ্ঞতা হয়নি। অনুমতি না-নিয়ে বিধায়ক ক্লাসে ঢুকে পড়ছেন। তার পর পড়ুয়াদের সামনে যে আচরণ আমার সঙ্গে করলেন, তাতে আমি অত্যন্ত মর্মাহত।’’ পরে অবশ্য নিজের ব্যবহারের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন বিধায়ক।

Advertisement

নির্মলের দাবি, ‘‘হলঘরের পিছন দিক থেকে মেঝেতে আবর্জনা দেখে দেখতে দেখতে ক্লাসরুমে একবার ঢুকে পড়েছিলাম। সে কারণে অনুমতি নেওয়া হয়নি। আমি শিক্ষক মহাশয়ের কাছে সে জন্য ভুল স্বীকারও করেছি। কিন্তু স্কুলচত্বরে এ ভাবে আবর্জনা থাকলে খারাপ লাগে। তা নিয়ে আমার প্রশ্ন করা নিশ্চয়ই অপরাধ নয়।’’

শিক্ষক গোলোকও জানিয়েছেন, পরে তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বিধায়ক। কিন্তু এ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গিয়েছে।

শিক্ষাঙ্গণে বিধায়কের আচরণের কড়া নিন্দা করেছে তৃণমূল। শাসকদলের ইন্দাস ব্লক সভাপতি শেখ হামিদ বলেন, ‘‘বিধায়কের ন্যূনতম শিক্ষা থাকলে তিনি এমনটা করতেন না। ক্লাসরুম দেখতে চাইলে তিনি প্রধানশিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যেতে পারতেন। অথবা ক্লাসে থাকা শিক্ষকের অনুমতি নিতেন। এ ভাবে ক্লাসে ঢুকে পড়ুয়াদের সামনে শিক্ষককে বিধায়ক যে ভাবে অপমানজনক কথা বলেছেন, তার নিন্দা করার ভাষা নেই। বিধায়ক তাঁর কাজ দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁর দলের সংস্কৃতি।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement