বেপাত্তা প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও ছেলে

দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীকে খুন

নিজের বাড়িতে রহস্যজনক ভাবে দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে খুন হলেন স্বামী। ইন্দাসের ঈশ্বরপুর এলাকার এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত দম্পতির নাম মহাদেব বৈরাগ্য (৬২) ও চন্দনা দাস বৈরাগ্য (৪৩)। মহাদেববাবুর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী চন্দনাদেবী। শুক্রবার মহাদেববাবুর ঈশ্বরপুরের বাড়ি থেকেই দু’জনের দেহ উদ্ধার হয়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০১৫ ০০:৪০
Share:

নিজের বাড়িতে রহস্যজনক ভাবে দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে খুন হলেন স্বামী। ইন্দাসের ঈশ্বরপুর এলাকার এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত দম্পতির নাম মহাদেব বৈরাগ্য (৬২) ও চন্দনা দাস বৈরাগ্য (৪৩)। মহাদেববাবুর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী চন্দনাদেবী। শুক্রবার মহাদেববাবুর ঈশ্বরপুরের বাড়ি থেকেই দু’জনের দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মহাদেববাবুর ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের কোপ রয়েছে। চন্দনাদেবীর সারা শরীরেও মিলেছে ধারালো অস্ত্রের কোপের দাগ। ঘটনার পর থেকে মহাদেববাবুর প্রথম পক্ষের স্ত্রী বিষ্ণুপ্রিয়া দাস বৈরাগ্য ও একমাত্র ছেলে রাধাকান্ত দাস বৈরাগ্য নিরুদ্দেশ।

Advertisement

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মহাদেববাবু ও তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ঈশ্বরপুরে থাকতেন। ওই বাড়িতেই আলাদা ভাবে থাকতেন বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী ও তাঁর ছেলে রাধাকান্ত। পড়শিদের কাছে জানা গিয়েছে, মহাদেববাবুর সম্পত্তির ভাগ নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল তাঁর প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও ছেলের সঙ্গে। এ নিয়ে মাঝে মধ্যেই বচসা হয় তাঁদের মধ্যে। বাবার দ্বিতীয়পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা ছিল না রাধাকান্তের। শুক্রবার সকালে মহাদেববাবু ও চন্দনাদেবীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয় বাড়ির আঙিনায়। মহাদেববাবুর দেহের পাশেই পড়েছিল চন্দনাদেবীর দেহ। গোটা আঙিনা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল রক্ত। বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী ও রাধাকান্ত দু’জনেরই খোঁজ মেলেনি।

খুনের ঘটনার তদন্তে ঘটনাস্থলে যান ইন্দাস থানার সিআই দেবাশিস রায় ও ওসি সুভাশিস হালদার। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথাও বলেন তাঁরা। জোড়া খুনের ঘটনায় গোটা গ্রাম থমথমে। প্রকাশ্যে এ নিয়ে কেউ মুখ খুলতে নারাজ। তবে গ্রামবাসীর একাংশের দাবি, নৃশংস ভাবে দু’জনকে খুন করা হলেও পড়শিদের অনেকেই তা টের পাননি।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, মহাদেববাবু অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক। চন্দনাদেবী ইন্দাসের বোড়া গ্রামের একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী ছিলেন। চন্দনাদেবীকে বিয়ে করার পর থেকেই মহাদেববাবুর পরিবারে নানা অশান্তি নেমে আসে। বাবা-ছেলের মধ্যে শুরু হয় সম্পত্তির অধিকার নিয়ে বিবাদ। তবে সেই বিবাদের জেরেই এই খুন কি না তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত নয় পুলিশ। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি। মহাদেববাবুর প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও ছেলের সন্ধান শুরু হয়েছে।”

তবে এ দিন বিকেল পর্যন্ত মহাদেববাবুর পরিবারের কেউ ঘটনাটি নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেননি। আজ শনিবার দু’টি মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বিষ্ণুপুর হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement