ইট মেরে ভাঙা হয়েছে গাড়ির কাচ। বিষ্ণুপুরে রবিবার। ছবি: শুভ্র মিত্র
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহকে গ্রেফতারের দাবিতে স্মারকলিপি দিতে এসেছিলেন তৃণমূল কর্মীরা। সেই ভিড় থেকেই বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগ উঠল রবিবার দুপুরে। এক্সচেঞ্জ মোড়ে তিন তলার ওই পার্টি অফিসের নীচের তলায় সমস্ত আসবাবপত্র ভাঙচুর করে তৃণমূলের পতাকা টাঙিয়ে দেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে তেতে থাকল মন্দিরনগরী বিষ্ণুপুর। বিজেপি কর্মীরা প্রতিবাদে ঝাপড় মোড়ে পথঅবরোধ করলেন। বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছেন, পরে তাঁরা অভিযোগ করবেন। এসডিপিও (বিষ্ণুপুর) সুকোমলকান্তি দাশ বলেন, ‘‘খবর পেয়েই পুলিশ গিয়েছিল। ঘটনাস্থলে টহলও চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।’’
এ দিন দুপুরে বিষ্ণুপুরের বিভিন্ন ব্লক থেকে তৃণমূল কর্মীরা মহকুমাশাসককে স্মারকলিপি দিতে এসেছিলেন। কিন্তু, রবিবার অফিস বন্ধ থাকায়, তাঁরা যান এসডিপিও-র অফিসে। তাঁর হাতে স্মারকলিপি দিয়ে ফেরার পথে এক্সচেঞ্জ মোড়ে বিজেপির ওই পার্টি অফিসে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। ওই পার্টি অফিসে এ দিন সংস্কারের কাজ চলছিল। তখন অফিস প্রায় ফাঁকাই ছিল। ভিতরে ছিলেন শুধু দলের জেলা কোষাধ্যক্ষ পীযূষ গোস্বামী। তাঁর অভিযোগ, ‘‘বাইরে থেকে কোলাহল শুনে বেরিয়ে দেখি, তৃণমূলের পতাকা হাতে লাঠি-রড নিয়ে জনা চল্লিশ লোক তেড়ে আসছে। ভয়ে একটা ঘরে ঢুকে দরজা এঁটে দিই। লোকজন দুমদাম শব্দে আশপাশের ঘরগুলোয় ভাঙচুর চালাতে থাকে। আমাকে মারার জন্য দরজাতেও কয়েকবার ধাক্কা মারে। আরও কিছুক্ষণ ভাঙচুর চালানোর পরে তারা চলে যায়।’’
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের বাইরে থাকা দলের গাড়ির সামনের কাচ থান ইট গিয়ে ভাঙা হয়েছে। বাইরে বাঁধা তৃণমূলের পতাকা। ভিতরে প্লাস্টিকের বেশ কয়েকটি চেয়ার ভেঙেচুরে পড়ে রয়েছে। স্টিলের আলমারি ভাঙা। রান্নাঘরেও তাণ্ডব চলেছে। মেঝেয় ছড়িয়ে রয়েছে চাল। তেল, মশলার কৌটোও পড়ে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁকে শ্রদ্ধা করেন, সেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর ছবিও মেঝেতে পড়েছিল। বাইরে এলাকাবাসী ভিড় করেছিলেন।
পীযূষবাবু দাবি করেন, ‘‘শুধু ভাঙচুরই করেনি। ওরা টিভি ও ল্যাপটপও চুরি করে নিয়ে গিয়েছে।’’ দলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি স্বপন ঘোষ অভিযোগ করেন, ‘‘আলমারিতে রাখা দলীয় তহবিলের দু’লক্ষ টাকাও তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা নিয়ে গিয়েছে।’’ তাঁর দাবি, হামলার খবর আগাম পেয়ে তিনি বিষ্ণুপুর থানাকে জানিয়েছিলেন। থানা থেকে আশ্বস্ত করা হয়, তৃণমূল কর্মীরা স্মারকলিপি দিতে আসছেন। স্বপনবাবুর অভিযোগ, ‘‘কোতুলপুরের বিধায়ক তথা মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরার নেতৃত্বে পাত্রসায়রের কিছু দুষ্কৃতী এ দিনের হামলায় যুক্ত।’’ বিজেপির তরফে পুলিশের কাছে মৌখিক অভিযোগ করা হলেও এ দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। শ্যামলবাবুর দাবি, ‘‘শনিবার থেকে আমি কলকাতায় দলীয় কাজে রয়েছি। তাই বিজেপির অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমাদের দলের কেউ হামলায় জড়িত নয়। কারা হামলা করেছে খোঁজ নিচ্ছি।’’ খবর পেয়ে আশপাশের গ্রাম থেকে বিষ্ণুপুরে জড়ো হন বিজেপি কর্মীরা। দলের জেলা সম্পাদক অমর শাখা, বিষ্ণুপুরের কাউন্সিলর দেবব্রত বিশ্বাসের নেতৃত্বে ঝাপড় মোড়ে কিছুক্ষণ পথ অবরোধ চলে।